বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জীবনযাপন

কঠিন সময় সামলে উঠতে সহনশীলতা বাড়াবেন কীভাবে?

IMG_4417

জীবনে নানা ধরনের প্রতিকূলতা আসতে পারে—চাকরি হারানো, অসুস্থতা, দুর্যোগ কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর মতো ঘটনা মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে পারে। এসব পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই হলো সহনশীলতা। সহনশীলতা কম থাকলে মানুষ সমস্যা থেকে বের হতে না পেরে নিজেকে অসহায় মনে করতে পারেন এবং মানসিক চাপ সামলাতে অস্বাস্থ্যকর পথও বেছে নিতে পারেন।

সহনশীলতা কোনো সমস্যা মুছে দেয় না। বরং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনকে এগিয়ে নেওয়া, আনন্দ খুঁজে পাওয়া এবং চাপ সামলে ওঠার শক্তি দেয়। এই ক্ষমতা জন্মগতভাবে কম থাকলেও চর্চার মাধ্যমে তা বাড়ানো সম্ভব।

কঠিন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

খারাপ কিছু ঘটলে রাগ, দুঃখ বা কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। তবে সহনশীলতা মানুষকে এসব অনুভূতির মধ্য দিয়েও শারীরিক ও মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। সহনশীল হওয়া মানে সব কষ্ট একা সহ্য করা নয়। বরং প্রয়োজনের সময় পরিবার, বন্ধু কিংবা কাছের মানুষের সাহায্য চাওয়াও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যে সহনশীলতার ভূমিকা

সহনশীলতা বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। উৎপীড়ন বা মানসিক আঘাতের মতো কঠিন অভিজ্ঞতার পরও এটি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও সহনশীলতা তা সামলানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

সহনশীলতা বাড়ানোর কিছু উপায়

সম্পর্ক শক্ত করুন: পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা কোনো সামাজিক, ধর্মীয় কিংবা আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন।

প্রতিদিনের জীবনে উদ্দেশ্য রাখুন: প্রতিদিন এমন কিছু করার চেষ্টা করুন, যা আপনাকে সাফল্য ও অর্থপূর্ণতার অনুভূতি দেয়। বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক থাকা সহজ হয়।

অতীত থেকে শিক্ষা নিন: আগে যেসব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো কীভাবে সামলেছিলেন তা মনে করুন। কোন বিষয়গুলো আপনাকে সাহায্য করেছিল, তা লিখে রাখলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজে লাগতে পারে।

আশাবাদী থাকুন: অতীত বদলানো সম্ভব নয়, তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক থাকা যায়। পরিবর্তনকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

নিজের যত্ন নিন: নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন। পছন্দের কাজ করুন, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। মানসিক চাপ কমাতে গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস, ধ্যান, যোগব্যায়াম বা প্রার্থনার মতো অভ্যাসও কাজে আসতে পারে।

সমস্যার মুখোমুখি হন: সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে কী করা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করুন। এরপর একটি পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিন। বড় ধাক্কা বা ক্ষতি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগতে পারে। তবে ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

Advertisements