২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি নিয়ে ৯ মাস বেঁচে থাকার রেকর্ড

IMG_4414

জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি শরীরে প্রতিস্থাপনের পর রেকর্ড ৯ মাস বেঁচে থেকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ বছর বয়সী টিম অ্যান্ড্রুস। ‘উইলমা’ নামের একটি জেনেটিকালি পরিবর্তিত শূকরের কিডনি তার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। পরে কিডনিটি বিকল হতে শুরু করলে মৃত মানুষের দান করা একটি কিডনি তার শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে অ্যান্ড্রুসের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মানব কিডনি পাওয়ার অপেক্ষায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। একই সময়ে তার মৃত্যুঝুঁকিও ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। মানব অঙ্গের সংকটের কারণে চিকিৎসকেরা তাই তার শরীরে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা ইয়ুকাটান মিনিয়েচার জাতের শূকর ‘উইলমা’র কিডনি অ্যান্ড্রুসের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। মানুষের শরীরে ব্যবহারের উপযোগী করতে শূকরটির জিনে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ কমানো এবং শূকর থেকে ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণু মানুষের শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো।

প্রতিস্থাপনের পর অ্যান্ড্রুস টানা ২৭১ দিন কোনো ডায়ালাইসিস ছাড়াই বেঁচে ছিলেন। জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি নিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়। একই সঙ্গে এটি প্রথম ঘটনা, যেখানে শূকরের কিডনি সাময়িকভাবে একজন রোগীকে মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করেছে।

প্রায় ছয় মাস পর শূকরের কিডনিটির রক্তনালিতে ক্ষতির লক্ষণ দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে সেটি বিকল হতে শুরু করে। নয় মাস পর কিডনিটি অপসারণ করা হয়। এরপর কিছুদিন ডায়ালাইসিস নেওয়ার পর অ্যান্ড্রুস মৃত এক দাতার কাছ থেকে মানব কিডনি পান। ছয় মাসের পর্যবেক্ষণে নতুন কিডনিটি ভালোভাবেই কাজ করেছে এবং বড় ধরনের জটিলতা বা রোগপ্রতিরোধজনিত প্রত্যাখ্যানের ঘটনা দেখা যায়নি।

শূকরের অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের গবেষণা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০২৪ সালে জীবিত মানুষের শরীরে প্রথমবার শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলেও ওই রোগী ৫২ দিন পর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় মারা যান। এর আগে প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের কোনো ঘটনায় দুই মাসের বেশি সময় বেঁচে থাকার তথ্যও পাওয়া যায়নি। সেই তুলনায় অ্যান্ড্রুসের ৯ মাসের অভিজ্ঞতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisements

তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি এখনো একজন রোগীর ঘটনা। শূকরের কিডনি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে কতটা নিরাপদ ও কার্যকর থাকবে, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

Advertisements