বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নারী

নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার পাইলট প্রিয়া অধিকারী, ছয় দিনে প্রায় ১০০ উদ্ধার অভিযান

623938-priya-adhikari2

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় যখন পাহাড়ি সড়ক, সেতু ও নিরাপদ অবতরণস্থল একের পর এক অচল হয়ে পড়ে, তখন দুর্গম এলাকাগুলোতে আটকে পড়া মানুষের জন্য আকাশপথই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। সেই সংকটময় সময়ে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন নারী হেলিকপ্টার পাইলট ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। মাত্র ছয় দিনে তিনি প্রায় ১০০টি উদ্ধার ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।

২৬ আগস্ট ২০২৬-এর ভয়াবহ বন্যার পর শুরু হওয়া এই উদ্ধার তৎপরতায় ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রিয়ার উড়ানসংখ্যা প্রায় ১০০-তে পৌঁছায়। প্রতিটি ফ্লাইটেই ছিল ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা এবং মানুষের জীবন বাঁচানোর তীব্র চাপ।

রাশুয়া জেলার টিমুরে পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন। একটি সরু এলাকায় একই সময়ে প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিল। কখনও পাঁচ থেকে ছয়টি হেলিকপ্টারকে প্রায় একই সময়ে অবতরণ করাতে হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামান্য ভুলও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।

শুধু আকাশ থেকেই বিপদ ছিল না, মাটিও ছিল সমান ঝুঁকিপূর্ণ। বন্যার পর কাদায় ডুবে যাওয়া ভূমি ওপর থেকে শক্ত মনে হলেও হেলিকপ্টার অবতরণের সময় চাকা গভীর কাদায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রতিটি অবতরণের আগে তাই পরিস্থিতি খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়েছে।


প্রিয়ার দায়িত্বও শুধু জীবিতদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুর্গম ও সড়কবিহীন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজেও অংশ নিয়েছেন তিনি। প্রতিকূল আবহাওয়া, সীমিত অবতরণস্থল এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির মধ্যেও তাঁকে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে

তবে এমন বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান প্রিয়ার জন্য একেবারে নতুন নয়। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরও তিনি হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। পর্বতারোহীদের উদ্ধারে পরিচালিত কয়েকটি অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত হেলিকপ্টার নিয়ে উড়েছেন তিনি। প্রিয়ার পাইলট হয়ে ওঠার পথটিও ছিল ভিন্নধর্মী। তিনি পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেছেন। পরে ফিলিপাইনে পাইলটিং প্রশিক্ষণ নেন। সেই প্রশিক্ষণের পর ২০১৭ সালে তিনি নেপালের পূর্ণকালীন নারী হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে প্রিয়া জানিয়েছেন, কাজটি ছিল অত্যন্ত ক্লান্তিকর। তবে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন পরিস্থিতির জন্য মানসিক ও পেশাগতভাবে প্রস্তুত রেখেছে।
নেপালের এবারের বন্যা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আকাশপথ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে মুহূর্তের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেতু ভেসে যায় কিংবা স্থলপথে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখানে একটি হেলিকপ্টারই হয়ে উঠতে পারে উদ্ধারকর্মীদের হাতিয়ার, জরুরি পরিবহন এবং কখনও কখনও একটি চলন্ত উদ্ধারকেন্দ্র। ক্যাপ্টেন প্রিয়ার সাহসী ভূমিকা সেই বাস্তবতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

Advertisements