নারী ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার চামারির নতুন অধ্যায়, হ্যাটট্রিকসহ ৭ উইকেট

ব্যাট হাতে রান না পাওয়ার সব ক্ষোভ যেন বল হাতে উগড়ে দিলেন চামারি আতাপাত্তু। নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক স্পেল উপহার দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। ইনিংসের দ্বিতীয়ভাগে হ্যাটট্রিকসহ মাত্র ৫ রান খরচ করে ৭ উইকেট শিকার করেছেন এই অলরাউন্ডার। তার বিধ্বংসী বোলিংয়েই নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে লেখা হয়েছে নতুন এক রেকর্ড।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৩.৩ ওভার বল করে ৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন ৩৬ বছর বয়সী আতাপাত্তু। এর মধ্য দিয়ে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রথম নারী বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির এক ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে নারী টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এক ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ বোলার হলেন এই অফস্পিনার।

আতাপাত্তুর অবিশ্বাস্য বোলিং ফিগার নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসেও সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন থাইল্যান্ডের অফস্পিনার ওংপাকা লিংপ্রাসার্ট। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ১২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া নারী এশিয়া কাপে এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে পাকিস্তানের দুই বোলার উমাইমা সোহেল ও নিদা দারের। উমাইমা ১৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট এবং নিদা দার ২১ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।
আতাপাত্তুর বিধ্বংসী বোলিংয়ের ওপর ভর করে ইন্দোনেশিয়াকে ৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের দৌড়ে এক পা দিয়ে রাখল লঙ্কানরা। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৪ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে আতাপাত্তুর অফস্পিনের সামনে একেবারেই দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। মাত্র ৪৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি।
আগামী রোববার নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলের অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। ১৩ বলে মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। একপর্যায়ে মাত্র ৬২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে লঙ্কানরা।
সেখান থেকে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন নীলক্ষ্মী সিলভা। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। ৩৫ বলে ৫০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৪ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন নীলক্ষ্মী। তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল।
১২৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন আতাপাত্তু। নিজের অফস্পিনে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা।
চতুর্থ ওভারেই ইন্দোনেশিয়ার প্রথম উইকেট তুলে নিয়ে উইকেট উৎসবের সূচনা করেন আতাপাত্তু। পরের ওভারে টানা দুই বলে মারিয়া করাজোন ও রাদা রানিকে সাজঘরে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন তিনি। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে ইন্দোনেশিয়ার অধিনায়ক আয়ু নন্দা সাকারিনিকে আউট করে আরও এগিয়ে যান লঙ্কান অধিনায়ক।
আতাপাত্তুর ঘূর্ণিতে মাত্র ৩৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ইন্দোনেশিয়া। এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
ইনিংসের ১৯তম ওভারে নিজের স্পেলের শেষ দিকে আবারও বল হাতে নেন আতাপাত্তু। ওভারের প্রথম দুই বলে কাড়েক মারিয়ানি ও সান মায়প্রিয়ানিকে আউট করেন তিনি। ফলে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে যান লঙ্কান অধিনায়ক।
তৃতীয় বলে দারা পরমিতাকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন আতাপাত্তু। এর সঙ্গেই পূর্ণ হয় তার হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে সম্পন্ন হয় ৭ উইকেটের অবিশ্বাস্য বোলিং ফিগার। আতাপাত্তুর ঘূর্ণিঝড়ের সামনে মাত্র ৪৯ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস।
ব্যাট হাতে মাত্র ৯ রান করলেও বল হাতে ইতিহাস গড়ে ম্যাচের নায়িকা হয়ে ওঠেন চামারি আতাপাত্তু। তার ৩.৩ ওভারে ৫ রান দিয়ে ৭ উইকেটের বোলিং ফিগারই এখন নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের সর্বকালের সেরা।



