বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বতসোয়ানার নারীকে মুক্তি

মাদক পাচারের মামলায় বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বতসোয়ানার এক নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী লেসেদি মোলাপিসির মুক্তির ফলে এখন তার নিজ দেশে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
বতসোয়ানা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেসেদি মোলাপিসিকে ২০২২ সালে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মাদক পাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা এই নাগরিককে মুক্ত করতে বতসোয়ানা সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়।
বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ডুমা বোকোর করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লেসেদিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। বতসোয়ানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনিও বুতালে এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারই লেসেদির নিজ দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।
লেসেদি মোলাপিসি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তার কাছে হেরোইন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে মাদক পাচারের মামলায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
লেসেদিকে মুক্ত করতে বতসোয়ানা সরকারের পাশাপাশি দেশটির কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও সক্রিয় ছিলেন। বতসোয়ানা জানিয়েছে, প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে থাকা তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলো এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মামলাটি নিয়ে আলোচনা চালায়।
শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের আবেদনের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর লেসেদিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে কারাবন্দি থাকার পর তার দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ছিল ২ হাজারের বেশি। একই বছর দেশটিতে নতুন করে ১৮৫টি মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল।
লেসেদি মোলাপিসির ঘটনাটি তাই একদিকে যেমন মাদক পাচারের মামলায় বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড ও মুক্তির বিষয়টি সামনে এনেছে, তেমনি বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।



