বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
বিনোদন

না ফেরার দেশে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সৌকার জানকী

image-45674-1787388290

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী সৌকার জানকী আর নেই। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ৯৪ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন নাদিগার সংঘের সভাপতি নাসের। দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন এই গুণী শিল্পী।

বেতার শিল্পী হিসেবে সৌকার জানকীর কর্মজীবনের শুরু। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে পা রেখে তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও মালয়ালম চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৪০০টি সিনেমা এবং ৩০০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ ভারতের দর্শকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

১৯৫০ সালে তেলেগু ভাষার ‘শভুকরু’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন। সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তীতে ওই চলচ্চিত্রের নাম থেকেই তার নামের সঙ্গে ‘সৌকার’ শব্দটি যুক্ত হয়ে যায়। এরপর এই নামেই তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

অভিনয়জীবনে সৌকার জানকী শুধু জনপ্রিয়তাই অর্জন করেননি, নিজের অভিনয় দক্ষতার জন্যও পেয়েছেন নানা স্বীকৃতি। চরিত্রের বৈচিত্র্য ও অভিনয়ের সাবলীলতার মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশটির মর্যাদাপূর্ণ পদ্মশ্রীসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।

সৌকার জানকীর ক্যারিয়ারের বিস্তৃতি ছিল কয়েক দশকজুড়ে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মঞ্চনাটকেও তার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। অভিনয়ের দীর্ঘ পথচলায় তিনি একাধিক প্রজন্মের শিল্পী ও দর্শকের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার অভিনয়জীবনের ব্যাপ্তি এবং বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে অবদান তাকে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মৃত্যুর পর শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য চেন্নাইয়ের সেন্টাফ রোড প্রাঙ্গণে সৌকার জানকীর মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানে ভক্ত, সহকর্মী ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

তার মৃত্যুতে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নিজের প্রতিভা ও কর্মের মাধ্যমে যে স্বতন্ত্র জায়গা তিনি তৈরি করেছিলেন, তার প্রয়াণে সেই জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মী ও ভক্তরা তার অবদানের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisements