বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

ফ্লুর মৌসুমে শরীর চাঙা রাখতে উপকারী ৫ পানীয়

1708427406_lemon-10

ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও জ্বরের মতো উপসর্গ নিয়ে অনেকেই ফ্লুতে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি, অনিয়মিত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি না পান করার কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এ সময় শরীরকে পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার—কোনো নির্দিষ্ট পানীয় বা ঘরোয়া উপাদান ফ্লু প্রতিরোধ বা নিরাময়ের নিশ্চয়তা দেয় না। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উপযুক্ত ক্ষেত্রে বার্ষিক ফ্লু টিকা নেওয়া। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান, হাত পরিষ্কার রাখা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলা এবং ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে কিছু পুষ্টিকর পানীয় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এগুলো শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করার পাশাপাশি বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে পারে। এমন পাঁচটি পানীয় হলো—

আমলকীর পানীয়

আমলকী ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগের উৎস। মৌসুমি সময়ে এটি খাদ্যতালিকায় যোগ করা যেতে পারে। আমলকীর রস সরাসরি পান করার পাশাপাশি পরিমাণমতো পানির সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থেকে বিরত থাকা ভালো।

ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ ফলমূলকে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে রাখলে সামগ্রিক পুষ্টি নিশ্চিত করা সহজ হয়। তবে আমলকীর পানীয়কে ফ্লুর চিকিৎসা বা প্রতিরোধের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তুলসী-ভেজানো পানি

তুলসী দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও ঘরোয়া ব্যবহারে পরিচিত। কয়েকটি তাজা তুলসীপাতা ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি পান করা যেতে পারে। চাইলে হালকা গরম পানির সঙ্গেও তুলসী ব্যবহার করা যায়।

Advertisements

এ ধরনের পানীয় মূলত শরীরে তরল সরবরাহের একটি উপায় হতে পারে। তবে তুলসী সরাসরি ফ্লু প্রতিরোধ করে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাই এটিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

আদা মেশানো গরম পানি

সর্দি-কাশি বা গলা অস্বস্তির সময় অনেকেই আদা মেশানো গরম পানি পান করেন। আদার ঝাঁঝালো উপাদান পানীয়টিকে আরামদায়ক করে তুলতে পারে। কয়েক টুকরো তাজা আদা পানিতে দিয়ে হালকা গরম করে পান করা যায়।

বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়ায় উষ্ণ পানীয় গলা ও শরীরকে আরাম দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত আদা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের আদা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের পরিমাণ কমানো বা এড়িয়ে চলা উচিত।

হলুদ মেশানো পানীয়

হলুদে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। অল্প পরিমাণ হলুদ গরম পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। কেউ কেউ দুধের সঙ্গেও হলুদ ব্যবহার করেন।

তবে হলুদ মেশানো পানীয়কে ফ্লুর ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। এটি সর্বোচ্চ একটি পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে বা বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত হলুদ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

গুলঞ্চ বা গিলয়ের পানীয়

গুলঞ্চ বা গিলয় দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ভেষজ উপাদানগুলোর একটি। বিভিন্ন এলাকায় এর রস বা পানীয় প্রচলিত রয়েছে। তবে গুলঞ্চ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় কিংবা লিভার-কিডনি পরিষ্কার করে—এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

ভেষজ উপাদানও শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তাই বিশেষ করে নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী, গর্ভবতী বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গুলঞ্চজাতীয় পানীয় গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

শুধু পানীয় নয়, পানিও জরুরি

ফ্লু হলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বিভিন্ন ভেষজ পানীয়ের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত তরল পান ও বিশ্রামের পরামর্শ দেয়।

এ ছাড়া ফল, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য, ভারসাম্য ও পরিমিতি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি মেশানো জুস বা কোমল পানীয়ের বদলে পানি ও কম চিনি থাকা পুষ্টিকর পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ফ্লু থেকে সুরক্ষার জন্য শুধু কোনো বিশেষ পানীয়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। হাত নিয়মিত ধোয়া, কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা, অসুস্থ হলে অন্যদের থেকে দূরে থাকা এবং ভিড় বা বদ্ধ জায়গায় সতর্ক থাকা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। আর জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে কিংবা উচ্চঝুঁকির কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

Advertisements