গাঁ’জার চাষ ও চিকিৎসায় ব্যবহারে অনুমতি দিল নেপালের গণ্ডকী প্রদেশ

নেপালের গণ্ডকী প্রদেশে চিকিৎসা কাজে গাঁজার ব্যবহার এবং এর চাষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও নেপালের জাতীয় আইনে গাঁজার উৎপাদন, বহন ও ব্যবহার এখনো নিষিদ্ধ, তবুও নতুন প্রাদেশিক আইনের মাধ্যমে চিকিৎসা উদ্দেশ্যে গাঁজার ব্যবহার বৈধতা পেয়েছে। গত সোমবার (৩ আগস্ট) প্রদেশের গভর্নর আইনে স্বাক্ষর করার পর এটি কার্যকর হয়।

কাঠমান্ডু পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণ্ডকী প্রাদেশিক আইনসভায় ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে আইনটি অনুমোদন করেন। এ সিদ্ধান্তকে নেপালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপালের সাতটি প্রদেশের একটি গণ্ডকী। পর্যটননগরী পোখরা, হিমালয়ের মনোমুগ্ধকর পর্বতমালা এবং জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটের জন্য অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এই প্রদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনে গাঁজা বৈধ হওয়ায় দেশজুড়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে জাতীয় পর্যায়ে গাঁজার বিষয়ে নেপালের আইন এখনো কঠোর। বর্তমান আইনে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কারও কাছে গাঁজা পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে গাঁজা বিক্রি, সরবরাহ বা বিতরণের সঙ্গে জড়িতদের ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
নেপালে গাঁজা দীর্ঘদিন ধরেই একটি ঐতিহ্যবাহী উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার বহু বছরের পুরোনো। এ কারণে গাঁজার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন অধিকারকর্মী ও সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
ঐতিহাসিকভাবে নেপালের সমাজে গাঁজার ব্যবহার স্বাভাবিক হলেও ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটির সরকার গাঁজাকে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে জাতীয়ভাবে এর উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও গণ্ডকী প্রদেশের নতুন আইন চিকিৎসা খাতে গাঁজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করল।



