পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে নিউইয়র্কে ড. ইউনূস

নিউইয়র্কের ব্যস্ত আয়োজনের মাঝেই পুরোনো পরিচিত দুই মুখের সঙ্গে দেখা হলো অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের। ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বসেছে এবারের বার্ষিক সম্মেলন।
ইউনূস ও ক্লিনটন পরিবারের এই যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। ক্ষুদ্রঋণের ধারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত হয়ে ওঠার সময় থেকেই বিল ক্লিনটন ছিলেন এর অন্যতম সমর্থক। আরকানসাসের গভর্নর থাকাকালে ইউনূসের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয় তার। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের সুযোগ তৈরির ভাবনাও সেখান থেকে এগিয়ে যায়।
ক্ষুদ্রঋণ ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গেও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে ইউনূসের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং দারিদ্র্য মোকাবিলায় ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিও রয়েছে হিলারি ক্লিনটনের। ১৯৯৫ সালে মেয়ে চেলসিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে এসে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেন। সে সময় ক্ষুদ্রঋণ কীভাবে নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করছে এবং তাদের পরিবারে এর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে নিউইয়র্কে আবারও একই পরিসরে মুখোমুখি হলেন তিনজন। এবারের সাক্ষাৎ তাই শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক দশকের পুরোনো পরিচয়, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ঘিরে এক দীর্ঘ যোগাযোগের ইতিহাস।



