২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

গর্ভকালে ডেঙ্গু হলে দরকার বাড়তি সতর্কতা

গর্ভকালে ডেঙ্গু হলে দরকার বাড়তি সতর্কতা

বছরের এই সময়ে আমাদের দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি। সামনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। ডেঙ্গু অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগ থেকে একটু আলাদা। কারণ, ডেঙ্গু ভাইরাস অনেকের প্রাণ সংহারক হতে পারে। ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সব বয়সীসহ অন্তঃসত্ত্বা নারীও আছেন।

অন্তঃসত্ত্বা নারীর ক্ষেত্রে কেন বেশি সচেতনতা

এখানে একজন নয়, মূলত দুজন মানুষের ভালো–মন্দের ব্যাপার জড়িত।

গর্ভাবস্থায় যেকোনো নারীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। তাই রোগ জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে অনেক রকমের পরিবর্তন ঘটে। তাই ডেঙ্গুর অনেক জটিলতা চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুর পর রক্তের অণুচক্রিকা কমে গেলে বা রক্তচাপ কমে গেলে তা থেকে প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ, অকালজন্ম বা গর্ভপাত প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে ডেঙ্গু হলে গর্ভাবস্থার লক্ষণের সঙ্গে ডেঙ্গুর লক্ষণ মিলে ভুল–বোঝাবুঝি হয়। ফলে তা থেকে জটিলতা বাড়তে পারে। তীব্র জ্বর গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। আবার শেষ তিন মাসে ডেঙ্গু হলে প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ বা রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়ে, বাড়তে পারে অন্যান্য প্রসবজনিত জটিলতা।

Advertisements

কী করবেন

এ মৌসুমে কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীর জ্বর হলে একেবারে অবহেলা করা যাবে না। প্রথম দিকে ডেঙ্গুকে একটি সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বরের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু জ্বরের প্রথম দিনেই রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গুর উপস্থিতি জানা গেলে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। তবে কখনো কখনো রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি না পেলেও রোগের লক্ষণ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় তীব্র জ্বর হলে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়াই শ্রেয়। সবার মতোই জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ, পর্যাপ্ত তরল খাবার, স্যালাইন ইত্যাদি ছাড়া আর বিশেষ কোনো চিকিৎসা দেওয়ার দরকার না হলেও এসব রোগীকে খুব নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন, যা অনেক সময় বাড়িতে সম্ভব হয় না।

শেষ কথা

পূর্ণ বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় নিশ্চিত করুন। জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ দিন। জ্বরের শুরুতেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। নিশ্চিত হয়ে নিন, এটা ডেঙ্গু নাকি অন্য কোনো সংক্রমণ। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারলে মা ও শিশু উভয়েই আশঙ্কামুক্ত থাকতে পারেন।

অধ্যাপক ডা. শাহনুর শারমিন, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

Advertisements