সর্দি-কাশি হলে ঘরেই কীভাবে সামলাবেন, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

ঋতু পরিবর্তন, আবহাওয়ার ওঠানামা কিংবা ভাইরাসের সংক্রমণে সর্দি-কাশির সমস্যা দেখা দিতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা, বারবার হাঁচি, গলাব্যথা, কাশি কিংবা শরীর ম্যাজম্যাজ করা—এসবই হতে পারে সাধারণ সর্দি-কাশির লক্ষণ। কারও কারও ক্ষেত্রে এর সঙ্গে হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং ক্লান্তিও দেখা যায়।
সাধারণ সর্দি-কাশির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারণ ভাইরাস। তাই সবসময় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই উপসর্গ কমতে শুরু করে এবং এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে অনেকটাই সেরে যায়।

উপসর্গে স্বস্তি পেতে যা করতে পারেন
সর্দি-কাশির সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পানি, উষ্ণ তরল খাবার বা স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। গলাব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে উষ্ণ পানি ও লবণ দিয়ে গার্গল কিছুটা আরাম দিতে পারে।
নাক বন্ধ থাকলে উষ্ণ বাষ্প সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কাশির ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মধু কিছুটা উপকারী হতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না। আদা, তুলসী বা অন্যান্য ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি উষ্ণ পানীয় অনেকে আরামদায়ক হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে এগুলোকে সর্দি-কাশির নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে ধরা উচিত নয়।
প্রয়োজনে ওষুধ
জ্বর বা শরীরব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়া বা অ্যালার্জিজনিত উপসর্গে কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হয়। কাশির ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তাই নিজের ইচ্ছায় কাশির সিরাপ বা একাধিক ওষুধ একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো।
ভিটামিন সি ও জিংক নিয়ে নানা প্রচলিত ধারণা থাকলেও এগুলোকে সর্দি-কাশির নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত মাত্রায় কোনো ভিটামিন বা খনিজ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। তবে সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তা খাওয়া উচিত নয়।
কখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন

সর্দি-কাশির সঙ্গে জ্বর খুব বেশি হলে বা কয়েক দিন ধরে না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একইভাবে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কফ হলুদ বা সবুজ হলেই যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে, এমন নয়। তাই শুধু কফের রং দেখে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়।
সংক্রমণ এড়াতে সচেতনতা
সর্দি-কাশি থেকে নিজেকে এবং আশপাশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে চোখ-মুখ বা নাকে হাত না দেওয়া এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা জরুরি। অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে খুব কাছাকাছি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাও উপকারী।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম, পানি পান এবং পুষ্টিকর খাবার শরীরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। তবে উপসর্গ গুরুতর হলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



