‘মিস ইউ মা’- ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে পাহাড় থেকে উদ্ধার নিখোঁজ শিক্ষার্থী

বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল ১৩ বছরের রাতুল দেব নাথ। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পর থেকেই যেন হঠাৎ উধাও হয়ে যায় সে। ফোন বন্ধ, কোনো খোঁজ নেই—উদ্বেগে উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটতে থাকে পরিবারের সময়। এর মধ্যেই ফেসবুকে আসে মাত্র তিন শব্দের একটি স্ট্যাটাস—‘Miss you Ma’। ছেলের এমন বার্তা দেখে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায় পরিবারের।
শেষ পর্যন্ত নিখোঁজের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রাতুলকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাতুল দেব নাথ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ছেংগারচর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব নাথের ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় রাতুল। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এর মধ্যেই ওই দিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাতুলের ফেসবুক পেজে ‘Miss you Ma’ লেখা একটি স্ট্যাটাস দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ছেলের এমন পোস্ট স্বাভাবিকভাবেই তাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। এর সঙ্গে সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও পরিবারের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। পরে রাতুলের বাবা মতলব উত্তর থানায় নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রাতুলকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, মতলব সার্কেল জাবীর হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি দল কাজ শুরু করে।
পুলিশ জানায়, রাতুলের সম্ভাব্য গতিবিধি বিশ্লেষণ, বিভিন্ন তথ্য যাচাই এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবান সদর থানার আওতাধীন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ১২ মাইলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই রাতুলকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়।
মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত পদক্ষেপ এবং সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রাতুলকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।



