মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তান জন্ম, মা-শিশুর দায়িত্ব নিল সরকার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে নবজাতকের বাবার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মা ও শিশুর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা, থাকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকার বহন করবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ফুলসূতী ইউনিয়নের ফুলসূতী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ফুলসূতী বাজার এবং আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিয়মিত তাকে খাবার এবং বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন।

সোমবার বিকেলে হঠাৎ ওই নারীর প্রসববেদনা শুরু হলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাদের সহযোগিতায় তিনি বাজার এলাকাতেই একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরে মা ও নবজাতককে দ্রুত উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মা ও শিশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আজাদ জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে দুজনই সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ হাসপাতালে গিয়ে মা ও নবজাতকের খোঁজখবর নেন। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই মা ও নবজাতককে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা নিরাপদে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো।
তিনি আরও বলেন, মা ও শিশুর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা, থাকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।



