বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
নারী

ফেসবুক ছেয়ে গেছে ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের ভিডিওতে, ঘটনা কী?

0ffac3b632429459d3b699a4d709cac4-6a6642fd267b9

ফেসবুকে গত কয়েক দিন ধরে একটি গান যেন হঠাৎ করেই সবার টাইমলাইন দখল করে নিয়েছে। ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’- এই গানের সঙ্গে ছবি বা ভিডিও জুড়ে রিল পোস্ট করছেন নানা বয়সী নারী-পুরুষ। অনেকের মনেই প্রশ্ন, হঠাৎ কেন একই গান ব্যবহার করে এত ভিডিও?

ঘটনার সূত্রপাত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি রিল ভিডিওকে ঘিরে। তিনি নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিল ‘ডিফারেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের জনপ্রিয় অংশ- আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’।

পরে একটি ফেসবুক পেজ ভিডিওটি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে ছড়িয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় ব্যাপক ট্রল ও সাইবার বুলিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়, এমনকি কিছু ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলেন।

বিতর্ক বাড়তে থাকলে বিউটি রানী পাল ভিডিওটি সরিয়ে নেন। তবে ঘটনাটি সাইবার বুলিংয়ের উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী শিক্ষক একই গান ব্যবহার করে নিজেদের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষও একই গানের রিল প্রকাশ করেন। এভাবেই গানটি প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

Advertisements

দেশজুড়ে পাওয়া এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিউটি রানী পাল। তিনি বলেন, একটি স্বাভাবিক ও সুন্দর মুহূর্তের ভিডিওকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাঁকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার করা হয়েছে। তাঁর পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

সাইবার বুলিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর অভিযোগ এনে গত শুক্রবার তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আসিফ ইকবাল ইরন’ নামে একটি ফেসবুক আইডি এবং ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে একটি পেজ তাঁর ভিডিও ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঠিক প্রতিফলন নয়।

এদিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিডিও ধারণ সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ।

তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মহলের একাংশ ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, একজন শিক্ষিকার ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় শিক্ষা বিভাগের উচিত ছিল তাঁর পাশে দাঁড়ানো। বরং তাঁর আচরণ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছেন না।
অন্যদিকে, সিলেট সফরকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ভিডিওটি না দেখলেও আশপাশের মানুষের কাছ থেকে জেনেছেন, এতে কোনো অশ্লীলতা ছিল না। তাঁর ভাষায়, “গান গাওয়া অন্যায়- এটা আমি মানতে রাজি নই।”

Advertisements
গানফেসবুকবিউটি রানী পালরিলসাইবার বুলিং