‘ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখি- কেউ মনে হয় আমাকে আ’গুনে ফেলে দিচ্ছে’

স্বপ্নেও তাড়া করে আগুনের বিভীষিকা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির আহতরা, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ভয়াবহ ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফিরছে আহত শিক্ষার্থীদের। অনেকে এখনো মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, কেউ আবার শারীরিক জটিলতার কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরে জান্নাত ইউশা, যিনি ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন, বলেন, এখনো স্কুলে গেলে আকাশে বিমান দেখলে ভয় লাগে। রাতে ঘুমের মধ্যেও বারবার সেই বিভীষিকাময় ঘটনার দুঃস্বপ্ন ফিরে আসে। তার ভাষায়, মনে হয় যেন কেউ তাকে আগুনে ছুড়ে ফেলছে।
দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী, নিহতদের স্বজন এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই সেই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং গত এক বছরে শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মেহেরীন জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শরীরে দগ্ধ হওয়ার ক্ষত নিয়ে আগের মতো স্কুলেও যেতে পারছেন না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের সামলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তা পুরো জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ।



