বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

নারীর ঘুমের সঙ্গী হিসেবে মানুষকে ছাড়িয়ে কুকুর?

bbbc99ab-2ddf-447f-944b-c06c0919eca2

রাতে ভালো ঘুমের জন্য মানুষ নানা উপায় খোঁজেন। কেউ আরামদায়ক বিছানা, কেউ নিরিবিলি পরিবেশ, আবার কেউ প্রিয়জনের সঙ্গকে গুরুত্ব দেন। তবে রাতে কার পাশে ঘুমালে সবচেয়ে বেশি আরাম পাওয়া যায়—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায়। গবেষণাটি বলছে, অনেক নারী মানুষের সঙ্গীর চেয়ে নিজের পোষা কুকুরের পাশে ঘুমালে বেশি স্বস্তি ও ভালো ঘুমের অভিজ্ঞতা পান।

২০১৮ সালে নিউইয়র্কের ক্যানিসিয়াস কলেজ-এর গবেষক ড. ক্রিস্টি এল. হফম্যান এবং তার সহকর্মীরা এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেন। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৯৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের অভ্যাস, তাদের সঙ্গে ঘুমানো সঙ্গী এবং ঘুমের মান নিয়ে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই ফলাফলে পৌঁছান।

গবেষণায় দেখা যায়, পোষা কুকুরের সঙ্গে ঘুমানো নারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, কুকুরের উপস্থিতিতে তারা রাতে তুলনামূলক বেশি নিশ্চিন্ত ও স্বস্তিবোধ করেন। তাদের মতে, কুকুর সাধারণত মানুষের তুলনায় বেশি নিয়মিত ঘুমের রুটিন অনুসরণ করে। রাতে অযথা বেশি নড়াচড়া করে না এবং নাক ডাকার প্রবণতাও তুলনামূলক কম থাকে। ফলে ঘুমে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাও কমে যায়।

গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিরাপত্তাবোধ। অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, বিছানায় পোষা কুকুর থাকলে তারা নিজেকে বেশি নিরাপদ মনে করেন। এই মানসিক নিরাপত্তা উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়তা করে, যা গভীর ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Advertisements

অন্যদিকে, অনেক নারী জানিয়েছেন যে মানুষের সঙ্গীর সঙ্গে ঘুমানোর ক্ষেত্রে নানা কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। সঙ্গীর অতিরিক্ত নড়াচড়া, নাক ডাকা কিংবা ভিন্ন ঘুমের সময়সূচির কারণে অনেক সময় ঘুম ভেঙে যায় বা ঘুমের মান কমে যায়। ফলে কিছু অংশগ্রহণকারীর কাছে পোষা কুকুরের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি আরামদায়ক বলে মনে হয়েছে।

তবে গবেষকরা এ ফলাফলকে সর্বজনীন হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এই গবেষণার ফলাফল মূলত অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমনটি বলা যায় না।

বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেন, কারও যদি পোষা প্রাণীর লোমে অ্যালার্জি থাকে, কুকুর রাতে অতিরিক্ত নড়াচড়া করে বা ঘুমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তাহলে উল্টো ঘুমের মান খারাপও হতে পারে। অর্থাৎ কার সঙ্গে ঘুমালে সবচেয়ে ভালো ঘুম হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

তবুও গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে—ভালো ঘুম শুধু শারীরিক আরামের ওপর নির্ভর করে না; মানসিক স্বস্তি, নিরাপত্তাবোধ এবং সঙ্গীর আচরণও ঘুমের মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে সেই মানসিক স্বস্তির উৎস হয়ে উঠছে তাদের প্রিয় পোষা কুকুর।

Advertisements
কুকুরঘুমনারীমানুষসঙ্গী