অসহনীয় মাসিক ব্যথায় বেতনসহ ছুটি, ইউরোপে নতুন দৃষ্টান্ত গড়ল স্পেন

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বেতনসহ ঋতুকালীন (মেনস্ট্রুয়াল) ছুটি চালু করেছে স্পেন। দেশটির সরকার প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি বিস্তৃত সংস্কার প্যাকেজের অংশ হিসেবে এই আইন অনুমোদন দেয়।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, যেসব কর্মী এন্ডোমেট্রিওসিস বা অ্যাডেনোমায়োসিস-এর মতো চিকিৎসকের মাধ্যমে নির্ণীত রোগের কারণে তীব্র ও কর্মক্ষমতা-হ্রাসকারী মাসিক ব্যথায় (সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া) ভোগেন, তারা চিকিৎসকের সনদ অনুযায়ী অসুস্থতাজনিত ছুটি নিতে পারবেন। এই ছুটির মেয়াদ নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। আইনে নির্দিষ্ট কোনো দিনের সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
এ ছুটির আর্থিক সুবিধা বহন করবে স্পেনের পাবলিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা, অর্থাৎ কর্মীদের বেতন পরিশোধের দায়িত্ব সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর থাকবে।
ঋতুকালীন ছুটির পাশাপাশি প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত আরও বেশ কয়েকটি সংস্কারও আনা হয়েছে। এর মধ্যে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং ঋতুস্রাবকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও সংকোচ দূর করার উদ্যোগও রয়েছে।

স্পেনের আইনপ্রণেতাদের মতে, তীব্র মাসিক ব্যথা অনেক নারীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত করে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই এটিকে অবহেলা না করে একটি বৈধ চিকিৎসাগত সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
এই নীতির সমর্থকদের ভাষ্য, এটি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের মতে, মাসিকজনিত কিছু শারীরিক সমস্যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক হতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে এই আইন এন্ডোমেট্রিওসিসসহ দীর্ঘদিন অবহেলিত বিভিন্ন রোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসায় মানুষকে উৎসাহিত করতে পারে।
তবে আইনটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, কিছু নিয়োগকর্তা এই নীতিকে অতিরিক্ত ব্যয় বা প্রশাসনিক ঝামেলা হিসেবে বিবেচনা করে নারীদের নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনীহা দেখাতে পারেন। এছাড়া কর্মীরা যেন কোনো ধরনের সামাজিক কলঙ্ক, বৈষম্য বা কর্মক্ষেত্রের চাপ ছাড়াই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
স্পেনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কর্মক্ষেত্রে প্রজননস্বাস্থ্য, শ্রমিক অধিকার এবং কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত সুবিধা নিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



