খ্যাতির চেয়ে মাতৃত্বকেই বেছে নিয়েছিলেন যে হলিউড অভিনেত্রী

চিকিৎসকেরা বলেছিলেন ছেলেকে ছেড়ে দিতে, ৯২ বছর বয়সেও সেই সিদ্ধান্ত বদলাননি হলিউড তারকা। হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং টেলিভিশনের প্রথম ‘ক্যাটওম্যান’ হিসেবে পরিচিত জুলি নিউমারের জীবনে খ্যাতি, সাফল্য আর আলোচনার কমতি ছিল না। তবে আজ তার সবচেয়ে বড় পরিচয় একজন অভিনেত্রী নয়, বরং একজন নিবেদিতপ্রাণ মা।

জুলির একমাত্র ছেলে জন জন্ম থেকেই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। এরপর মাত্র তিন বছর বয়সে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে তিনি শ্রবণশক্তিও হারান। সন্তানের এমন অবস্থায় চিকিৎসকেরা জুলিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নির্ধারিত কোনো প্রতিষ্ঠানে জনকে রেখে দিতে। তাদের ধারণা ছিল, এতে মা ও সন্তানের জীবন তুলনামূলক সহজ হবে।

কিন্তু সেই পরামর্শ একেবারেই গ্রহণ করেননি জুলি নিউমার। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ছেলে তার কাছেই থাকবে এবং নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তাকে বড় করবেন। সন্তানের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে তিনি নিজেই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখেন। জনের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে বদলে ফেলেন নিজের দৈনন্দিন জীবন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মা-ছেলের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে, যার ভিত্তি ছিল ভালোবাসা, ধৈর্য এবং নিরলস যত্ন।

বর্তমানে ৯২ বছর বয়সেও জুলি নিউমার তার ৪৫ বছর বয়সী ছেলে জনের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। বয়সের ভার সত্ত্বেও এখনও তিনি সন্তানের দেখাশোনা করে চলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জুলি বলেছিলেন, “সে আমার জীবনের আলো। তাকে নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্তের জন্য আমি কখনোই অনুতপ্ত হইনি।”

জুলি নিউমারের জীবনগল্প মনে করিয়ে দেয়, একজন মায়ের ভালোবাসা কোনো প্রতিকূলতা, বয়স কিংবা প্রতিবন্ধকতার কাছে পরাজিত হয় না। সন্তানের প্রতি নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।



