বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
বিশ্লেষণ

একটি লিংকেই উধাও লাখ টাকা! ৯৭% ভুক্তভোগী নারী-শিশু

istockphoto-2206876287-612×612 (1)

দেশে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সাইবার অপরাধ। প্রতারণা, ফিশিং, অনলাইন জুয়া, সাইবার বুলিং ও পরিচয় চুরির মতো অপরাধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও শিশু। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাইবার সহিংসতার প্রায় ৯৭ শতাংশ ভুক্তভোগী নারী ও শিশু, আর সবচেয়ে বেশি টার্গেট করা হচ্ছে কিশোরী ও তরুণীদের।

পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজন কোনো না কোনোভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। কিন্তু সামাজিক লজ্জা ও ভয় থেকে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগই করেন না। যারা অভিযোগ করেন, তাদের অনেক মামলাই পর্যাপ্ত ডিজিটাল প্রমাণের অভাবে নিষ্পত্তি পায় না।

শুধু হয়রানি নয়, আর্থিক প্রতারণাও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। সম্প্রতি বিআরটিএর নামে পাঠানো একটি ভুয়া এসএমএসে থাকা লিংকে প্রবেশ করে এক চিকিৎসক এক লাখ টাকা হারান। এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। তদন্তে জানা গেছে, ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে মুহূর্তেই অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র।
এদিকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সম্প্রতি এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে, যারা সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। প্রতারণার মাধ্যমে একজন স্বজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, অনলাইন জুয়ার বিস্তারও উদ্বেগজনক। সংঘবদ্ধ চক্রগুলো মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টসংবলিত সিম, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

Advertisements

গত পাঁচ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইনের আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি মামলা হলেও, পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট না থাকায় অনেক মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ ধীরগতির। এ পরিস্থিতিতে সরকার ইতোমধ্যে পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, ফিশিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ এখন দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, দেশীয় অপরাধীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চক্রও এ ধরনের অপরাধে জড়িত। তাদের পরিচালিত অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হচ্ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

Advertisements
নারীভুক্তভোগীলিংকসাইবার অপরাধ