বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ধূমপান-বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেই কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

images (58)

ধূমপান, বায়ুদূষণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলো মোকাবিলা করতে পারলে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ বা অন্তত বিলম্বিত করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ বিষয়ে সংস্থাটি একটি হালনাগাদ নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে, যেখানে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ হলো ডিমেনশিয়া। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের মধ্যে এটি শারীরিক অক্ষমতা এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই রোগ মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। প্রতিবছর নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ও সাধারণ ধরন হলো আলঝেইমার্স, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অসংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক দেবোরা কেস্টেল বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনকেই নয়, তার পরিবার, পরিচর্যাকারী এবং পুরো সমাজকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই রোগ মানুষের স্বাস্থ্য, স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জীবনযাত্রার মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

Advertisements

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ডিমেনশিয়ার কোনো স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও এর প্রায় ৪৫ শতাংশ ঝুঁকি প্রতিরোধযোগ্য। যেসব কারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাক ব্যবহার, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বায়ুদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগ।

এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রথম নির্দেশিকার পর থেকে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তথ্যপ্রমাণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেই নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই নির্দেশিকাটি হালনাগাদ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস বলেন, মানুষের মানসিক ও জ্ঞানগত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন বিশ্বজুড়ে তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর সুপারিশ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিমেনশিয়া সাধারণত ৬৫ বছরের পর বেশি দেখা দিলেও এটি বার্ধক্যের অনিবার্য অংশ নয়। অর্থাৎ বয়স বাড়লেই যে সবাই ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবেন, এমন ধারণা সঠিক নয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, যেহেতু ডিমেনশিয়ার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা স্থায়ী নিরাময় নেই, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যাদের মৃদু মানসিক বা স্মৃতিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য কগনিটিভ স্টিমুলেশন বা মানসিক উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডিমেনশিয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এর প্রায় অর্ধেকই ব্যয় হয় পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের অবৈতনিক পরিচর্যা ও সেবাদানের মাধ্যমে।

এ কারণে ডব্লিউএইচওর মতে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ।

Advertisements
ডিমেনশিয়াধূমপানবায়ুদূষণ