বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখার ভয়ংকর প্রভাব জানলে চমকে যাবেন

untitle-20260711090108

একটু ফাঁকা সময় পেলেই হাতে উঠে আসে মোবাইল। তারপর শুরু হয় একের পর এক রিলস বা ছোট ভিডিও দেখা। শুধু তরুণরাই নন, এখন অনেক প্রবীণও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলের পর্দায় সময় কাটাচ্ছেন। তবে এই অভ্যাস যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ব্যবহার সব সময় খারাপ নয়। প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা, ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখা বা অনলাইনে বন্ধুদের সঙ্গে কোনো খেলা খেলার মতো কাজে স্মার্টফোন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে একাকীত্ব কমে এবং মস্তিষ্কও কিছুটা সক্রিয় থাকে।

তবে সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন রিলস দেখা বা মোবাইল ব্যবহারই দৈনন্দিন জীবনের প্রধান অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। এতে অনেকেই হাঁটাচলা কমিয়ে দেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান না, এমনকি রাত জেগেও মোবাইল ব্যবহার করেন।

অতিরিক্ত রিলস দেখলে কী হতে পারে?

Advertisements

শারীরিক চলাফেরা কমে যায়

দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে মোবাইল দেখার কারণে শরীরের নড়াচড়া কমে যায়। এতে ওজন বেড়ে যাওয়া, জয়েন্টের ব্যথা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঘুমের সমস্যা বাড়ে

মোবাইলের পর্দার আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় বা অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মনোযোগ কমে যায়

বারবার অল্প সময়ের ভিডিও দেখার অভ্যাস দীর্ঘ সময় কোনো বিষয় মনোযোগ দিয়ে পড়া বা কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয়

রিলস দেখার সময় সাময়িক আনন্দ মিললেও অতিরিক্ত ব্যবহার একসময় একাকীত্ব, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে।

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রযুক্তি ব্যবহার করুন, তবে সময় বেঁধে। প্রতিদিন কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকুন। বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, হাঁটাহাঁটি বা গাছের যত্ন নেওয়ার মতো অভ্যাস শরীর ও মন—দুটোকেই ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

মোবাইল আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হলেও, সেটি যেন আসক্তিতে পরিণত না হয়। সময়মতো সচেতন থাকলেই সুস্থ থাকবে শরীর, ভালো থাকবে মন।

Advertisements
অভ্যাসছোট ভিডিওনিয়ন্ত্রণমোবাইলরিলস