বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
নারী

চারদিকে পানি, প্রসববেদনায় কাতর নারীকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

befunky-collage-3-1783593958

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন্যার পানিতে চারদিক তলিয়ে যাওয়ার মধ্যে প্রসববেদনা ওঠা এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। পরে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

ভয়াবহ সেই রাতের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে গৃহবধূ মিজবাহুল জান্নাত (২২) বলেন, ‘রাতে হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হয়। বাইরে তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। বাড়ির সামনের রাস্তা গলাসমান পানিতে ডুবে ছিল। মনে হচ্ছিল, আমি আর আমার সন্তান—কেউই আর বাঁচব না। বারবার আল্লাহকে ডাকছিলাম’।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মিজবাহুল জান্নাত সৌদি আরবপ্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী। কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডলু নদের তীরবর্তী খৈয়ারকুল গ্রামটি প্লাবিত হয়ে যায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মিজবাহুল জান্নাতের প্রসববেদনা শুরু হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও বন্যার পানিতে বাড়ির আশপাশের সড়ক তলিয়ে থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে হলেও পানির কারণে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না।

Advertisements

পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের সহায়তা চাইলেও গভীর রাতের প্রবল বৃষ্টি ও পানির শব্দের কারণে তাদের ডাক অনেকের কাছেই পৌঁছায়নি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ভোরে বাধ্য হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। উদ্ধারকর্মীরা কোমর থেকে গলাসমান পানি পেরিয়ে স্ট্রেচারে করে ওই নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

মিজবাহুল জান্নাত বলেন, ‘প্রসববেদনা ওঠার পর খুব ভয় পেয়েছিলাম। চারদিকে শুধু পানি আর পানি ছিল। মনে হচ্ছিল, আমার এবং আমার সন্তানের জীবন হয়তো রক্ষা হবে না। আল্লাহর রহমতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আমাদের উদ্ধার করেছেন’।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযানের পর ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘স্টেশন থেকে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার হলেও পুরো পথ পানির নিচে ছিল। উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচারে করে কাঁধে বহন করে তাকে নিয়ে আসেন এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়’।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে লোহাগাড়ার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ডলু, হাঙ্গর ও টঙ্কাবতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত থেকেই উপজেলার সব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা সদর, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কের বেশিরভাগ অংশ ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এতে অন্তত অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisements
নারীপ্রসববেদনাফায়ার সার্ভিসবন্যা