খেলার উত্তেজনা যেন না কেড়ে নেয় জীবন!

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন বদলে যায় পৃথিবীর ছন্দ। রাত জেগে খেলা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক, প্রিয় দলের প্রতিটি আক্রমণে নিঃশ্বাস আটকে রাখা- সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগ। কিন্তু এই আবেগ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ চলাকালে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত উত্তেজনা, উদ্বেগ বা প্রিয় দলের হারের ধাক্কা শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যা হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
উত্তেজনার মুহূর্তে শরীরে দ্রুত নিঃসৃত হয় স্ট্রেস হরমোন- অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল। এসব হরমোন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, হৃদস্পন্দন দ্রুত করে এবং রক্তনালিকে সংকুচিত করে ফেলে। ফলে হৃদ্যন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কোলেস্টেরলের সমস্যা বা অতিরিক্ত ওজন রয়েছে, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত চাপ হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হঠাৎ বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা কিংবা স্ট্রেস-জনিত হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
খেলা দেখুন, তবে সচেতন থাকুন
খেলাধুলা আনন্দের জন্য, অসুস্থ হওয়ার জন্য নয়। তাই খেলা দেখার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। হার-জিতকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। খেলা শুরুর আগেই নিজেকে মনে করিয়ে দিন, এটি একটি প্রতিযোগিতা- এখানে কেউ জিতবে, কেউ হারবে।
উত্তেজনা বেশি হলে বিরতি নিন। দীর্ঘ সময় টেলিভিশনের সামনে না বসে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটুন, পানি পান করুন এবং শরীরকে কিছুটা স্বস্তি দিন।
নিয়মিত ওষুধ খেতে ভুলবেন না। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ রয়েছে, তারা খেলার উত্তেজনায় ওষুধ খাওয়া বাদ দেবেন না। বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। টানা রাত জেগে খেলা দেখার ফলে শরীরে ক্লান্তি জমে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই খেলার আনন্দের পাশাপাশি বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থাকুক, উচ্ছ্বাসও থাকুক। তবে মনে রাখতে হবে, একটি ম্যাচ কখনোই জীবনের চেয়ে বড় নয়। সুস্থ শরীর ও শান্ত মন নিয়েই উপভোগ করুন বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত।



