আবিষ্কার হলো কবুতরের দুধ: ক্রপ মিল্ক

বাবা কবুতরও ‘দুধ’ খাওয়ায় সন্তানকে! প্রকৃতির এক বিস্ময়কর রহস্য। দুধ মানেই কি শুধু মানুষ, গরু বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী? ছোটবেলা থেকেই আমরা তাই জেনে এসেছি। কিন্তু প্রকৃতি মাঝে মাঝেই এমন কিছু চমক দেখায়, যা আমাদের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দেয়। তেমনই এক বিস্ময় লুকিয়ে আছে আমাদের আশপাশে দেখা একেবারে সাধারণ একটি পাখির মধ্যে- কবুতর।
অনেকেই জানেন না, কবুতর তার নবজাতক বাচ্চাকে জীবনের প্রথম কয়েক দিন একটি বিশেষ ধরনের দুধসদৃশ পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ায়। এর নাম ক্রপ মিল্ক (Crop Milk)। এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধ নয়, বরং কবুতরের গলার নিচে থাকা ক্রপ নামের একটি বিশেষ থলির কোষ থেকে তৈরি হওয়া পুষ্টিকর নিঃসরণ।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, শুধু মা নয়- বাবা কবুতরও সমানভাবে এই ক্রপ মিল্ক তৈরি করতে পারে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই উভয়ের শরীরে এটি উৎপন্ন হতে শুরু করে। বাচ্চা জন্মের পর প্রথম সাত থেকে দশ দিন মা ও বাবা পালা করে তাকে এই পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ায়।
ক্রপ মিল্কে থাকে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, চর্বি, খনিজ পদার্থ এবং রোগপ্রতিরোধে সহায়ক নানা উপাদান। দ্রুত বেড়ে ওঠা ছানার জন্য এটি আদর্শ প্রথম খাবার। কয়েক দিন পর ধীরে ধীরে এই দুধের সঙ্গে আধা-হজম করা বীজ ও অন্যান্য খাবার মিশিয়ে খাওয়ানো শুরু হয়।
শুধু কবুতরই নয়, ফ্লেমিঙ্গো এবং সম্রাট পেঙ্গুইনের মতো কয়েকটি পাখিও বাচ্চাদের জন্য দুধসদৃশ পুষ্টিকর নিঃসরণ তৈরি করতে পারে। তবে তাদের শরীরে এটি তৈরির প্রক্রিয়া কবুতরের থেকে কিছুটা আলাদা।
প্রকৃতির এই অনন্য কৌশল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য শুধু স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই নয়, কিছু পাখিও বিস্ময়করভাবে অভিযোজিত হয়েছে। প্রতিদিন চোখের সামনে উড়ে বেড়ানো সাধারণ কবুতর তাই আসলে বয়ে বেড়ায় এক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক রহস্য।



