প্রিয় দল হেরে গেলে ট্রল ও মানসিক চাপ সামলাবেন কীভাবে?

বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা, আবেগ আর সমর্থকদের অগাধ ভালোবাসা। প্রিয় দলের জয়ে যেমন আনন্দে ভেসে যান সমর্থকেরা, তেমনি একটি পরাজয় অনেকের জন্য হয়ে ওঠে হতাশার কারণ। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ট্রল, মিম আর খোঁচাখুঁচি। পরদিন অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা বন্ধুদের আড্ডাতেও সেই আলোচনা চলতে থাকে। কারও কাছে এগুলো নিছক মজা হলেও, অনেকের জন্য তা মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি খেলা নিয়ে আবেগের নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি দলকে সমর্থন করতে করতে অনেক মানুষ অজান্তেই সেই দলের সঙ্গে নিজের পরিচয় ও অনুভূতি জড়িয়ে ফেলেন। বিশ্বকাপের স্মৃতি, রাত জেগে খেলা দেখা, জয়ের উচ্ছ্বাস কিংবা আগের টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে দলটি হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত আবেগের অংশ। তাই পরাজয়ের পর মন খারাপ হওয়া, কিছু সময় চুপচাপ থাকতে ইচ্ছা করা বা হতাশ লাগা একেবারেই স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সমর্থকের জন্য পরাজয়ের চেয়েও বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায় পরবর্তী ট্রল। ম্যাচ চলাকালীনই অনেকের মাথায় ঘুরতে থাকে—দল হারলে বন্ধুদের গ্রুপে কী হবে, অফিসে কী শুনতে হবে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতটা খোঁচা সহ্য করতে হবে। ফলে মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিক্রিয়াও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।
তবে সব ট্রল এক রকম নয়। বন্ধুদের হালকা খুনসুটি খেলাধুলার সংস্কৃতিরই অংশ। কিন্তু সেটি যখন ব্যক্তিগত অপমান, বিদ্বেষ বা কাউকে বারবার বিব্রত করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তা আর বিনোদন থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি মন্তব্যের জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। অনেক সময় নীরব থাকা, বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেওয়া বা কিছু সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, প্রিয় দলের হারকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। একটি ম্যাচের ফল একজন মানুষের আত্মসম্মান, যোগ্যতা বা ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন নয়। তাই নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা এবং খেলার বাইরের জীবনেও মনোযোগ দেওয়া মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে শুধু সমর্থকদের নয়, যারা ট্রল করেন তাদেরও সংযত থাকা প্রয়োজন। ফুটবল নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ ঠাট্টা খেলাধুলার সংস্কৃতির অংশ হলেও সেটি যেন কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কাউকে ছোট করার মাধ্যম না হয়ে ওঠে। কারণ একটি ম্যাচ শেষ হতে সময় লাগে ৯০ মিনিট, কিন্তু একটি কটু মন্তব্য দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপ আবেগের উৎসব, আর সেই আবেগেই মানুষ আনন্দিত হয়, আবার হতাশও হয়। তাই জয়-পরাজয়ের বাইরে একে অপরের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোই হতে পারে একজন সত্যিকারের ক্রীড়াপ্রেমীর পরিচয়।



