ভালো ঘুম চাইলে রাতে যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন

রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার সমস্যা অনেকেরই। অথচ পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম সুস্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে কিছু অভ্যাস অজান্তেই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, টেলিভিশন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো শরীরে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, ফলে সহজে ঘুম আসে না।
এ ছাড়া কিছু ওষুধ বা খাদ্যপরিপূরকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো বা বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বার্তা আদান-প্রদানও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় ফোন মিউট রাখা বা দূরে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চা, কফি এবং বিশেষ করে ডার্ক চকোলেটে থাকা ক্যাফেইন দীর্ঘ সময় শরীরে সক্রিয় থাকে। ফলে রাতে এসব খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে ঘুমে সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিনের কাজ শেষ করে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে না গিয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ঘুমানোর আগে কাজসংক্রান্ত ই-মেইল বা বার্তা না দেখাই ভালো। কারণ এসব বিষয় মানসিক চাপ বাড়িয়ে ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাতে অতিরিক্ত ঝাল বা চর্বিযুক্ত খাবার খেলে হজমের সমস্যা, অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির কারণে ঘুম ব্যাহত হতে পারে। তাই ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ধূমপানও ভালো ঘুমের অন্যতম বাধা। সিগারেটে থাকা নিকোটিন শরীরকে সজাগ রাখে, ফলে ঘুমাতে দেরি হয় এবং অনিদ্রার সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে রাতের ঘুমের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।



