পিসিওএস থেকে পিএমওএস:বদলে যাওয়া নামে নতুন বার্তা

নারীদের মধ্যে হরমোনজনিত অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভেরিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস)। আগে এটি পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) নামে পরিচিত ছিল। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রোগটির নাম পরিবর্তন করে পিএমওএস রাখা হয়েছে, যাতে এর হরমোনজনিত ও বিপাকীয় (মেটাবলিক) বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের নামটি বিভ্রান্তিকর ছিল। কারণ, অনেক রোগীর ডিম্বাশয়ে সিস্ট না থাকলেও তাদের এই রোগ থাকতে পারে। এছাড়া এটি শুধু ডিম্বাশয়ের সমস্যা নয়; বরং হরমোন, বিপাকক্রিয়া, ত্বক, প্রজননস্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ শরীরের একাধিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। তবে নাম পরিবর্তন হলেও রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার মূল নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সমস্যা
পিএমওএসের অন্যতম প্রধান কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। এতে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং অতিরিক্ত ইনসুলিন ডিম্বাশয়ে অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ডিম্ব স্ফুটন বাধাগ্রস্ত হয় এবং অনিয়মিত মাসিক, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম গজানো ও গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া বংশগত কারণ, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও পিএমওএসের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবারে মা বা বোনের এই রোগ থাকলে অন্য সদস্যদের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে।
প্রতিরোধ
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ পিএমওএস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরের ওজন মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমালেও হরমোনের ভারসাম্য উন্নত হতে পারে এবং মাসিক নিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম, কম চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া, আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি অনিয়মিত মাসিক, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম বা ওজন বৃদ্ধি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জটিলতা
চিকিৎসা না করলে পিএমওএস থেকে বন্ধ্যত্ব, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার এবং ডিপ্রেশন বা উদ্বেগসহ বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ডিম্বাশয়ের রোগ নয়; বরং পুরো শরীরের হরমোন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। তাই সময়মতো চিকিৎসা, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে পিএমওএস সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতের গুরুতর জটিলতা এড়ানো যায়।



