বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ই জিন ক্যারলের যৌন নিপীড়নের মাম’লায় ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ট্রাম্পকে

webpp

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ম্যাগাজিন লেখক ই জিন ক্যারলের দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে রায় জুরিবোর্ড দিয়েছিল, তা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (২৯ জুন) ট্রাম্পের করা আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শীর্ষ আদালত এ সিদ্ধান্ত দেয়। ফলে ক্যারলকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকল।

সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক প্রথা অনুযায়ী, আদালত এই সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কোনো বিচারপতিও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত বা আপত্তি নথিভুক্ত করেননি।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছিলেন, জুরিবোর্ডের রায় মূলত এমন কিছু ‘অত্যন্ত উস্কানিমূলক’ তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো বিচারক অনুমোদন করেছিলেন। এসব তথ্যের মধ্যে আরও দুই নারীর সাক্ষ্যও ছিল। তারা কয়েক দশক আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একই ধরনের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই ওই তিন নারীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

ট্রাম্পের আইনি দলের অভিযোগ ছিল, মামলার বিচারক লুইস কাপলান কেন্দ্রীয় সাক্ষ্য আইন লঙ্ঘন করেছেন। পাশাপাশি তারা যুক্তি দেন, বর্তমানে এই আইনি জটিলতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালের মে মাসে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের আগের ঘটনা।

Advertisements

আদালতে দাখিল করা নথিতে ট্রাম্পের আইনজীবী জাস্টিন ডি স্মিথ লিখেছিলেন, ‘একজন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বহাল রাখা উচিত নয়।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্প ইতোমধ্যে স্মিথকে একটি ফেডারেল আপিল আদালতের বিচারক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ই জিন ক্যারলের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টকে মামলাটি পুনর্বিবেচনা না করার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্য ছিল, অন্য দুই নারীর সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের অভিযোগের ধরন ক্যারলের অভিযোগের সঙ্গে মিল রয়েছে। ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান বলেন, ‘এই মামলাটি পুনর্বিবেচনার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।’

২০২৩ সালের বিচার চলাকালে সাবেক টেলিভিশন টক শো উপস্থাপক ও কলামিস্ট ই জিন ক্যারল আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ট্রাম্প টাওয়ারের বিপরীতে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিংরুমে ট্রাম্প তাকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরে ২০২২ সালে ক্যারলের অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে মানহানির দায়েও দোষী সাব্যস্ত করে।

পরবর্তীতে পৃথক একটি মানহানি মামলায় একই জুরি ক্যারলকে আরও ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প আপিল করেছেন। তবে মামলাটি এখনও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়নি।

এর আগে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে দেওয়া বেশ কয়েকটি বড় আইনি রায়ে সফলভাবে স্বস্তি পেয়েছেন। নিউইয়র্কের একটি দেওয়ানি জালিয়াতি মামলায় তার বিরুদ্ধে আরোপিত ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানার রায় আপিল আদালত বাতিল করেছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি রায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কর্মকাণ্ডে তাকে ফৌজদারি বিচারের হাত থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার যৌন নিপীড়নের এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল গ্রহণ না করায় বড় ধরনের আইনি ধাক্কার মুখে পড়েছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ নীতিগত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র।

Advertisements
ক্ষতিপূরণট্রাম্পডলারমামলা