বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
বিনোদন

আবারও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘সুপারগার্ল’

images (16)

অনেক দিন ধরেই ‘সুপারগার্ল’ ছিল হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি। বিশাল বাজেট, দীর্ঘ প্রচারণা এবং বিশ্বজুড়ে ডিসি ভক্তদের উচ্চ প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে ধারণা করা হয়েছিল ছবিটি গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে দাপট দেখাবে। কিন্তু মুক্তির পর বাস্তব চিত্র হলো একেবারেই ভিন্ন। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম আয় করে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ডিসি কমিকসনির্ভর এই সুপারহিরো সিনেমা। অন্যদিকে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী আসলেও টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও বক্স অফিসের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘টয় স্টোরি ৫’।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও ডিসি স্টুডিওর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘সুপারগার্ল’ উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ৬০০ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি আয় করেছে মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারের আয় যোগ করলে এর বৈশ্বিক উদ্বোধনী সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

মুক্তির আগে বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, উত্তর আমেরিকাতেই ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তে অন্তত ৫ কোটি থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করবে। কিন্তু সেই পূর্বাভাস বাস্তবে পূরণ হয়নি। ফলে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ছবিটিকে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের তালিকায় ফেলছেন বিশ্লেষকেরা।

এটি আরও উদ্বেগের কারণ, কারণ ‘সুপারগার্ল’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ডলার। এর বাইরে রয়েছে বিপুল প্রচারণা ও বিপণন ব্যয়। সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, এত বড় বাজেটের একটি সিনেমাকে লাভের মুখ দেখতে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করতে হয়। যদিও ছবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, তাদের হিসাব অনুযায়ী ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

Advertisements

শুধু বক্স অফিসেই নয়, সমালোচকদের কাছ থেকেও আশানুরূপ প্রশংসা পায়নি ‘সুপারগার্ল’। সমালোচনাবিষয়ক ওয়েবসাইট রটেন টোমাটোজে ছবিটির স্কোর মাত্র ৫৬ শতাংশ। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও খুব ইতিবাচক নয়। সিনেমাস্কোরের জরিপে ছবিটি পেয়েছে ‘বি মাইনাস’ গ্রেড।

প্রথম সপ্তাহান্তে যারা ছবিটি দেখতে গিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৫৯ শতাংশই ছিলেন পুরুষ দর্শক। অর্থাৎ ছবিটি মূলত সুপারহিরো ঘরানার নির্দিষ্ট দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। সাধারণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারেনি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ছবিতে সুপারগার্ল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিলি অ্যালকক। তাঁর সঙ্গে রয়েছে জনপ্রিয় সুপারডগ ক্রিপ্টো। গল্পে মহাকাশে অভিযানের সময় রুথি নামের এক ভিনগ্রহের কিশোরীর সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের অভিযানে নামেন সুপারগার্ল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ গিলেস্পি।

মাত্র এক বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘সুপারম্যান’ দিয়েই জেমস গান ও পিটার সাফরানের নেতৃত্বে নতুন ডিসি ইউনিভার্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই সিনেমা উত্তর আমেরিকায় উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে আয় করেছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সংগ্রহ করেছিল ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

সেই সাফল্যের পর ডিসি ইউনিভার্সের ১০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে স্টুডিও কর্তৃপক্ষ আশাবাদী ছিল। কিন্তু ‘সুপারগার্ল’-এর দুর্বল সূচনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সেই পরিকল্পনার পথ মোটেও সহজ হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সুপারম্যান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারহিরো হলেও সুপারগার্ল এখনো মূলধারার দর্শকদের কাছে একই মাত্রার জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। ফলে ভবিষ্যতে তুলনামূলক কম পরিচিত ডিসি চরিত্রদের নিয়ে বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে স্টুডিওকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

অন্যদিকে নতুন দুটি সিনেমা মুক্তি পেলেও বক্স অফিসের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘টয় স্টোরি ৫’। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৭ কোটি ডলার। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় আয় কমেছে ৫৫ শতাংশ, যা বড় বাজেটের অ্যানিমেশন সিনেমার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মাত্র ১২ দিনেই উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। আর বিশ্বব্যাপী আয় পৌঁছেছে ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত এটি ‘টয় স্টোরি’ সিরিজের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায় পরিণত হতে পারে। বর্তমানে সেই রেকর্ড রয়েছে ‘টয় স্টোরি ৪’-এর দখলে, যার বৈশ্বিক আয় ছিল ১০৭ কোটি ডলার।

এদিকে সপ্তম সপ্তাহেও বক্স অফিসে দুর্দান্তভাবে টিকে আছে স্বল্প বাজেটের হরর সিনেমা ‘অবসেশন’। সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৯৮ লাখ ডলার। আগের সপ্তাহের তুলনায় আয় কমেছে মাত্র ২৭ শতাংশ।

এ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী আয় ৩৭ কোটি ডলার। কম বাজেটের এই হরর চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যেই ফোকাস ফিচারসের ইতিহাসে অন্যতম লাভজনক সিনেমায় পরিণত হয়েছে।

এই সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া আরেক নতুন সিনেমা ‘জ্যাকঅ্যাস: বেস্ট অ্যান্ড লাস্ট’-এর শুরুটাও আশানুরূপ হয়নি। উত্তর আমেরিকায় প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে মাত্র ৮৪ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারসহ মোট উদ্বোধনী আয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারে।

এটি পুরো ‘জ্যাকঅ্যাস’ সিরিজের সবচেয়ে দুর্বল উদ্বোধনী সংগ্রহ। তবে নির্মাণ ব্যয় মাত্র ১ কোটি ডলার হওয়ায় ছবিটি শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর ‘ডিসক্লোজার ডে’ও প্রত্যাশামতো এগোতে পারছে না। তৃতীয় সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৮১ লাখ ডলার। এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় এর আয় ৯ কোটি ৪৩ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই ছবিকে লাভের মুখ দেখতে হলে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ কোটি ডলার আয় করতে হবে।

যদিও ‘সুপারগার্ল’ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তবু সামগ্রিকভাবে হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। মহামারির পর এটিকেই সবচেয়ে সফল গ্রীষ্মকাল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান আয় ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তি পাবে ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টার্স’। এরপর একে একে প্রেক্ষাগৃহে আসবে ‘দ্য ওডিসি’ এবং ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তাই হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও জমে উঠবে বলেই মনে করছেন দর্শক ও বিশ্লেষকেরা।

Advertisements
অফিসবক্সসিনেমাসুপারগার্লহলিউড