ভূমিকম্প বলয়ের মধ্যে ঢাকা, বড় দুর্যোগের আশঙ্কায় সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সক্রিয় ভূমিকম্প বলয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর আশপাশে একের পর এক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কম্পন ভবিষ্যতের বড় ধরনের ভূমিকম্পের ইঙ্গিতও হতে পারে।
সর্বশেষ ২২ জুন রাতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের বিভিন্ন এলাকা। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এবং গত বছরের নভেম্বরে নরসিংদীর মাধবদীতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার ফল। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ফল্ট লাইনও হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
ভূমিকম্প গবেষক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারীর মতে, ছোট ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির আশঙ্কা কম হলেও বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগ সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম ফল্টগুলো। তিনি জানান, ঢাকার কাছাকাছি শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর এলাকা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে রাজধানীর পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ভবন ছয়তলার ওপরে। শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে এসব ভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রায় ৫৬ শতাংশ ভবন ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে নীতিমালা না মানা এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন ফল্ট লাইনে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল শক্তি জমা হয়ে আছে। সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৮ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো শক্তি তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, ভূমিকম্প সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, নিয়মিত মহড়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারও ঢাকাকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় ১ লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী তৈরি এবং ৪৫০টি জরুরি সমাবেশ কেন্দ্র নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



