বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
খাবার-দাবার

আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘আসাদো’, কেন বিশ্ববিখ্যাত?

সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল উন্মাদনার কথা সবারই জানা। মেসিপ্রেমীরা জীবনে একবার হলেও যে মেসির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে চান। তেমনি অনেকেই আছেন জীবনে একবার হলেও আর্জেন্টিনায় ঘুরতে যেতে চান। এই দেশটি মনোরম প্রকৃতির জন্য সুপরিচিত। এই দেশটির আরও একটি বড় পরিচয় রয়েছে, তা হলো তাদের দুর্দান্ত সব খাবার। আর যখন আর্জেন্টিনার খাবারের মধ্যে সবার আগে যে নামটি মাথায় আসে তা হলো ঐতিহ্যবাহী ‘আসাদো’। এটি কেবল আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারই নয়, বরং দেশটির সংস্কৃতি ও আড্ডার প্রাণকেন্দ্র। চলুন জেনে নেওয়া যাক আর্জেন্টিনার এই জনপ্রিয় জাতীয় খাবার এবং এর প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে কিছু দারুণ তথ্য।

‘আসাদো’ আসলে কী?

‘আসাদো’ হলো আর্জেন্টিনার নিজস্ব স্টাইলের বারবিকিউ বা মাংস পোড়ানো। তবে সাধারণ বারবিকিউর সঙ্গে-এর পার্থক্য বিস্তর। আর্জেন্টিনায় ‘আসাদো’ শুধু একটি রেসিপি নয়, এটি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার একটি বড় সামাজিক উৎসবও বটে। ছুটির দিনে সবাই মিলে খোলা আকাশের নিচে আসাদো তৈরির আয়োজন করা দেশটির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।

যেভাবে তৈরি হয় আসল ‘আসাদো’

আসাদো তৈরির মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এর কম তাপে রান্নার কৌশলে। আসাদো তৈরিতে গরুর মাংসের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে রিবস বা পাঁজরের মাংস, ভাসিও, চোরিজো ও মোলেহাস ব্যবহার করা হয়।

ন্যূনতম মশলা: এই রান্নায় বাড়তি কোনো ঝাল বা চড়া মশলা ব্যবহার করা হয় না। মাংসের আসল স্বাদ ও স্মোকি ফ্লেভার ধরে রাখতে সাধারণত কেবল মোটা লবণ মাখিয়ে নেওয়া হয়।

‘পারিল্য’ নামক বিশেষ গ্রিলে কাঠের কয়লার আগুনে কম তাপে এই মাংস ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পোড়ানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে পোড়ানোর কারণে মাংসের ভেতরের অংশটি অত্যন্ত নরম এবং রসালো হয়ে ওঠে।

‘চিমিচুরি’ সস

আসাদোর আসল স্বাদ খোলতাই হয় এর বিশেষ পরিবেশনায়। গ্রিল করা গরম গরম মাংস পরিবেশন করা হয় ‘চিমিচুরি’ নামক একটি ঐতিহ্যবাহী ভেষজ সস দিয়ে।
পার্সলে পাতা, রসুন, অরিগানো, অলিভ অয়েল ও ভিনেগারের মিশ্রণে তৈরি এই সস মাংসের স্বাদকে নিয়ে যায় অন্য মাত্রায়। এর সাথে সাইড ডিশ হিসেবে থাকে গ্রিল করা পনির (প্রোভোলেটা) এবং তাজা সালাদ।

আর্জেন্টিনাআসাদোঐতিহ্যবাহী