বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
ফ্যাশন

আর্জেন্টিনা জিতুক বা হারুক, শাড়ি কিন্তু জিতবেই!

ar p

বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ আসলে শুধু খেলা হয় না, একটা জাতীয় উৎসব শুরু হয়। চার বছর পরপর দেশের মানুষ হঠাৎ করেই দক্ষিণ আমেরিকার নাগরিক হয়ে যায়। কেউ আর্জেন্টিনার, কেউ ব্রাজিলের। পাড়ার মোড়ে মোড়ে পতাকা উড়ে, ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি বদলে যায়, আর ঘরের ভেতরেও শুরু হয় ছোটখাটো আন্তর্জাতিক কূটনীতি।

এই আবেগ থেকে বাদ যান না বাঙালি নারীরাও। তবে তাদের সমর্থনের ধরনটা একটু আলাদা। ছেলেরা যেখানে জার্সি পরে গলা ফাটায়, সেখানে নারীরা ভাবেন— ‘জার্সি তো হলো, কিন্তু শাড়ির কী হবে?’ কারণ বাঙালি নারীর কাছে শাড়ি শুধু পোশাক নয়, প্রায় সব সমস্যার সমাধান। বিয়ে? শাড়ি। ঈদ? শাড়ি। বৈশাখ? শাড়ি। দাওয়াত? শাড়ি। এখন দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ? সেখানেও শাড়ি!

তাই আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকার রঙে যখন শাড়ি তৈরি হয়, তখন ব্যাপারটা অদ্ভুত নয়, বরং খুবই বাঙালি। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, ‘ফুটবল খেলার সঙ্গে শাড়ির সম্পর্ক কী?’ কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতি দেখে মনে হয়, সম্পর্ক না থাকলেও বাঙালিরা সম্পর্ক বানিয়ে নিতে ওস্তাদ।

এই শাড়ির সবচেয়ে মজার দিক হলো, এটি একসঙ্গে দুই কাজ করে। একদিকে আপনি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি লুক ধরে রাখতে পারবেন, অন্যদিকে দূর থেকে সবাই বুঝে যাবে—আপনি কোন দলের সমর্থক। আলাদা করে কিছু বলার দরকার নেই। শাড়ির রঙই আপনার হয়ে কথা বলবে।

তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত, এই শাড়ি পরে ছবি তুললে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টের অভাব হবে না। কেউ বলবে, ‘মেসির জন্য এত ভালোবাসা!’ কেউ বলবে, ‘শাড়িটা কোথা থেকে নিলেন?’ আবার কেউ হয়তো খেলা শুরুর আগেই ম্যাচের স্কোর ভুলে গিয়ে শাড়ির ডিজাইন নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।

ছবি তোলার জন্য সবুজে ঘেরা কোনো পার্ক, নদীর পাড়, ক্যাম্পাস কিংবা খোলা মাঠ হতে পারে আদর্শ জায়গা। এমনকি বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজনেও এই শাড়ি আপনাকে গ্যালারির সবচেয়ে স্টাইলিশ সমর্থকে পরিণত করতে পারে।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জিতবে কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু আকাশি-সাদা এই শাড়ি যে বাঙালি নারীদের ফ্যাশন আর ফুটবলপ্রেমের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা একটা বিষয় খুব ভালো করেই জানে—খেলা ৯০ মিনিটের, কিন্তু সমর্থনের স্টাইল সারাজীবনের!

আর্জেন্টিনাফুটবলবাংলাদেশবিশ্বকাপশাড়ি