বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
স্বাস্থ্য

নারীর প্রয়োজন কমপক্ষে ১১ মিনিট বেশি ঘুম

নারীর প্রয়োজন কমপক্ষে ১১ মিনিট বেশি ঘুম

নারী হোক কিংবা পুরুষ, সুস্থ থাকতে হলে দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু এ তত্ত্ব সবার ক্ষেত্রে খাটে না। কারও ৬ ঘণ্টায় ঘুম পূরণ হয়ে যায়, আবার কারও ৯ ঘণ্টা ঘুমালেও বিশ্রাম নেওয়া শেষ হয় না। এসব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠেও নারীর ঘুম বেশি হওয়া দরকার। কারণ পুরুষের তুলনায় নারীর কমপক্ষে ১১ মিনিট বেশি ঘুমানো প্রয়োজন।

নারী মাল্টিটাস্কিংয়ে এক্সপার্ট বলে নয়, তাদের হরমোনাল হেলথের জন্যও ঘুম বেশি প্রয়োজন। শরীরের জৈবিক ঘড়ির ছন্দ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা ভীষণ জরুরি। যদি প্রতিদিন রাত ১১টার আগে ঘুমাতে যান, তবে এটি শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে। এতে মেলাটোনিনসহ একাধিক হরমোনের নিঃসরণ ঠিকমতো কাজ করবে। যার ফলে বিপাক হার, প্রজনন স্বাস্থ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না।

তবে রাত ১১টার আগেই যে নারীকে ঘুমাতে হবে, এমন কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। কিন্তু ঘুমের সময় ঠিক রাখা ভীষণ জরুরি। আপনি যদি প্রতিদিন রাত ১২টায় ঘুমাতে যান, সেই রুটিনটাই বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তবে দিন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বেন, স্বাস্থ্যের জন্য ততই ভালো। শুধু চেষ্টা করুন ‘স্লিপ হাইজিন’ বজায় রাখার।

‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’ বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশ মহিলা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন। পুরুষদের তুলনায় মহিলারা একাধিক ধরনের কাজ করেন। অথচ, তারাই সবচেয়ে কম বিশ্রাম নেন। আর এর প্রভাব সরাসরি তাদের হরমোনের ভারসাম্যের ওপর পড়ে।

Advertisements

এদিকে ঘুমের অভাব হরমোনের ওপর প্রভাব সম্পর্কে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মহিমা কাক নাগপাল সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, নারীর হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকীয় স্বাস্থ্য এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঘুমের ভূমিকা অপরিসীম। হরমোন নিঃসরণ শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে জড়িয়ে। যেমন রাত জাগার অভ্যাস ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আবার পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ে, ইনস্যুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয় এবং প্রজননসংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই ডা. নাগপাল নারীকে রাত ১১টার আগে ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘুমের অভাবে মেলাটোনিন, কর্টিসল, লুটিনাইজিং হরমোন, ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন, ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মতো একাধিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

Advertisements
১১ মিনিটঘুমনারী