বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
এডিটরস পিক

মেঘনার চরে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন বুনছে মিম

prothomalo-bangla_2026-06-15_snwkjnod_68ed2dac-80fe-400a-8412-3216f922ad49

মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই জনপদ দীর্ঘদিন ধরে ছিল নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ না থাকায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েই অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থেমে যেত। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই চিত্র ছিল আরও বেশি উদ্বেগজনক।

এমন বাস্তবতায় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত ‘মদনপুর আলোর পাঠশালা’। চরাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে বিদ্যালয়টি। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম।

পড়াশোনার পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতিমধ্যে শিক্ষক ও সহপাঠীদের নজর কেড়েছে মিম। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, সে একজন স্বপ্নবাজ কিশোরী।

বড় হয়ে একজন স্কুলশিক্ষক হতে চায় মিম। নারী শিক্ষার পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত এই শিক্ষার্থী মনে করে, শিক্ষাই পারে একটি সমাজকে বদলে দিতে।

মিম বলে, ‘আমি বড় হয়ে শিক্ষিকা হতে চাই। আমাদের এলাকায় অনেক ছেলে-মেয়ে সুযোগের অভাবে লেখাপড়া করতে পারে না। আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি চাই সবাই শিক্ষার আলো পাক।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মিম অত্যন্ত পরিশ্রমী, ভদ্র ও মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি তার নেতৃত্বগুণ এবং সৃজনশীলতা অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করে।

নদীভাঙন, যাতায়াত-সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মিমের মতো শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করছে, স্বপ্ন দেখার জন্য বড় শহর কিংবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নয়, প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল ও সঠিক দিকনির্দেশনা।

মেঘনার প্রত্যন্ত চর থেকে উঠে আসা মিমের চোখে যে স্বপ্নের আলো জ্বলছে, একদিন সেই আলো ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো মাঝেরচরজুড়ে। তার স্বপ্ন পূরণের গল্প হয়তো অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে আরও অনেক শিশুর জন্য।

সূত্র: প্রথম আলো

শিক্ষিকাস্বপ্ন