বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

ওজন বাড়বে ভেবে আম এড়িয়ে চলছেন না তো?

mango

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল মানেই আমের মৌসুম। স্বাদ, গন্ধ আর জনপ্রিয়তার দিক থেকে দেশের মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষেই থাকে এই ফল। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের অনেকের মধ্যেই আম খাওয়া নিয়ে দ্বিধা কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, বেশি আম খেলে শরীরে চিনি বাড়ে কিংবা ওজন বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক পরিমাণ ও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খেলে আম মোটেও ক্ষতিকর নয়, বরং শরীরের জন্য উপকারী।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে আম অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ফল। ১০০ গ্রাম আমে থাকে তুলনামূলক কম ক্যালরি, পর্যাপ্ত শর্করা, আঁশ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। বিশেষ করে চোখের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ এবং ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ‘সি’ আমকে করে তুলেছে আরও মূল্যবান।

অনেকেই মনে করেন, আম খেলেই ওজন বাড়বে। কিন্তু তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই পরিমাণ ভাতের তুলনায় আমে ক্যালরি কম থাকে। অন্যদিকে ভাতে যেখানে খুব বেশি পুষ্টিগুণ নেই, সেখানে আমে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা উপাদান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমে থাকা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে এবং হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ত্বকের কোলাজেন তৈরিতেও আমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তবে কখন এবং কতটুকু আম খাওয়া হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি চাইলে সকালের নাশতার বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ আম খেতে পারেন। সাধারণভাবে দুইটি বড় বা তিনটি মাঝারি আকারের আম একটি পূর্ণাঙ্গ খাবারের বিকল্প হিসেবে ধরা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আম খাওয়ার সময় অন্য শর্করাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। অর্থাৎ আমের সঙ্গে ভাত, রুটি কিংবা মুড়ি খাওয়া ঠিক নয়। বিকেলের আগেই আম খাওয়া ভালো, সন্ধ্যার পর এ ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আম কখনো রস করে না খেয়ে সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। এতে আঁশের পূর্ণ উপকার পাওয়া যায় এবং শরীরে অতিরিক্ত চিনি দ্রুত প্রবেশ করে না।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আম না খাওয়াই ভালো। আবার কিডনি রোগীদের জন্য পটাশিয়াম গ্রহণে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, আম খাওয়া নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং পরিমাণ বুঝে এবং সঠিক সময়ে খেলে এই মৌসুমি ফল শরীরের জন্য উপকারই বয়ে আনে। তাই গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফল উপভোগ করতে হলে প্রয়োজন শুধু সচেতন খাদ্যাভ্যাস।

আমক্যালরিস্বাস্থ্য