বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

স্বামীর সঙ্গে নেই যোগাযোগ, তবু কি দেনমোহর দাবি করা যাবে?

Mohrana-2203211017

বিয়ের পর কোনো নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ না রাখা এবং কাবিন বা দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ না করা নিয়ে অনেকেই আইনি জটিলতায় পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন কী বলে এবং ভুক্তভোগী নারীর করণীয় কী—সেই বিষয়ে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিয়ে একটি দেওয়ানি চুক্তি এবং দেনমোহর সেই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেনমোহর পরিশোধ করা আইনগত ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই বাধ্যতামূলক।

আইনজীবীদের মতে, কাবিননামা বা নিকাহনামা হলো বিয়ের একমাত্র লিখিত প্রামাণ্য দলিল। এতে উল্লেখিত দেনমোহরের পরিমাণ পরিশোধ করতে স্বামী আইনত বাধ্য। কাবিননামার ১৫ নম্বর কলামে সাধারণত তাৎক্ষণিক (উসুল) এবং বিলম্বিত দেনমোহরের বিবরণ উল্লেখ থাকে।

তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রী দাবি করার সঙ্গে সঙ্গেই পরিশোধ করতে হয়।

অন্যদিকে বিলম্বিত দেনমোহর বিয়ের পর যেকোনো সময় পরিশোধ করা যেতে পারে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিলম্বিত দেনমোহরও অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

দেনমোহর শুধু নগদ অর্থের মাধ্যমেই নয়, সোনা, গয়না বা অন্য কোনো বৈধ সম্পদের মাধ্যমেও পরিশোধ করা যেতে পারে।

যদি কোনো স্বামী দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখেন এবং দেনমোহর বা ভরণপোষণ প্রদান না করেন, তাহলে স্ত্রী প্রথমে তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবি করতে পারেন।

এরপরও স্বামী দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকৃতি জানালে পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও ভরণপোষণ দাবিতে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি দিয়ে দাম্পত্য সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, ভরণপোষণ পাওয়া বা না পাওয়া, এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগের পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কাবিননামা সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আইনগত পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইনদেনমোহরযোগাযোগস্বামী