বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
এডিটরস পিক

স্কিনকেয়ার ট্রেন্ডে বাড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

Preschool-aged-girl-lying-on-a-white-blanket-with-hair-curler-holding-nail-polish

ত্বকের যত্নের নামে শিশুদের মধ্যে এক নতুন প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অল্প বয়সেই অনেক শিশু নিয়মিত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করছে, যা বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘কসমেটিকোরেক্সিয়া’।

সহজভাবে বলতে গেলে, প্রসাধনী ও স্কিনকেয়ার পণ্যের প্রতি শিশুদের অতিরিক্ত নির্ভরতা বা আসক্তিই কসমেটিকোরেক্সিয়া। বিশেষ করে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে বিভিন্ন স্কিনকেয়ার ভিডিও এবং সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্ট শিশুদের আকৃষ্ট করছে। পাশাপাশি আকর্ষণীয় প্যাকেজিং ও বিপণন কৌশলের মাধ্যমে অনেক প্রসাধনী ব্র্যান্ডও শিশুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

সমস্যা হলো, শিশুদের ত্বক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি কোমল ও সংবেদনশীল। এ বয়সে রেটিনল, ভিটামিন-সি, আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড কিংবা বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকে অ্যালার্জি, র‍্যাশ, একজিমা, পিগমেন্টেশনসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতিও হতে পারে।

এ প্রবণতা শুধু শারীরিক সমস্যাই তৈরি করছে না, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্টি, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, সামাজিক উদ্বেগ এবং অবাস্তব সৌন্দর্য ধারণার প্রতি নির্ভরতা শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করা উচিত নয়। অল্প বয়সে সাধারণ ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিনই যথেষ্ট। পাশাপাশি শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো এবং সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।

পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব এই দিকে খেয়াল রাখা যেন শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ, খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার জায়গা যেন প্রসাধনীর বোতলে বন্দী না হয়ে যায়।

ট্রেন্ডশিশুস্কিনকেয়ার