৪৮ হাজার বছর পর পুনরুজ্জীবিত ‘জম্বি’ ভাইরাস

প্রায় ৪৮ হাজার বছর ধরে বরফের নিচে সুপ্ত অবস্থায় থাকা একটি প্রাচীন ভাইরাসকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ‘জম্বি ভাইরাস’ নামে পরিচিত এসব অণুজীব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বরফ গলে গেলে এ ধরনের অজানা জীবাণু আবারও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্কটিক অঞ্চল এবং চিরহিমায়িত পারমাফ্রস্টের নিচে আটকে থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ে সতর্ক করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত বরফ গলতে থাকায় হাজার হাজার বছর ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব জীবাণুর মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে, যেগুলোর বিরুদ্ধে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
এই সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতেই ফ্রান্সের একদল গবেষক সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্ট অঞ্চল থেকে সংগৃহীত নমুনা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণার অংশ হিসেবে কয়েকটি প্রাচীন ভাইরাসকে পরীক্ষাগারে পুনরুজ্জীবিত করা হয়, যাতে সেগুলোর বৈশিষ্ট্য, সংক্রমণক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়।
গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘Viruses’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বরফের নিচে হাজার হাজার বছর ধরে টিকে থাকা অণুজীবগুলো পরিবেশে মুক্ত হয়ে গেলে সেগুলোর প্রভাব সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা জরুরি। এ কারণেই পরীক্ষাগারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভাইরাসগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রাচীন ব্যাকটেরিয়ার কারণে যদি কোনো সংক্রমণ দেখা দেয়, তাহলে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে। তবে অজানা ও প্রাচীন ভাইরাসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ এসব ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি নাও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি এমন কোনো প্রাচীন ভাইরাস উদ্ভিদ, প্রাণী বা মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে তা নতুন ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত পুনরুজ্জীবিত এসব ভাইরাস মানুষের জন্য সরাসরি বিপজ্জনক বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে গবেষণা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন ফরাসি গবেষক জ্যঁ-মিশেল ক্লাভেরি এবং তার সহকর্মীরা। তাদের দাবি, প্রাচীন ভাইরাসগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মূল উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে কী ধরনের জৈবিক ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়তা করা।



