বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
এডিটরস পিক

এবার ফ্রিজে ঠান্ডা হবে মানুষ, জাপানের অনন্য উদ্ভাবন

এবার ফ্রিজে ঠান্ডা হবে মানুষ, জাপানের অনন্য উদ্ভাবন

তীব্র গরমে বাইরে বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়, নেমে আসে ক্লান্তি। রোদ থেকে একটু স্বস্তি পেতে মানুষ খোঁজে ঠাণ্ডা জায়গা। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই মজা করে বলেন, ‘ইচ্ছে করছে ফ্রিজে ঢুকে যাই!’ জাপান সেই কথাকেই এবার বাস্তবে পরিণত করেছে। অসহ্য গরম থেকে সাময়িক আরাম দিতে জাপান তৈরি করেছে এক অভিনব যন্ত্র—যেখানে মানুষই ঢুকতে পারবে ফ্রিজের মতো একটি কেবিনে।

নতুন এই প্রযুক্তির নাম ‘ডো হিয়েমন বক্স’। দেখতে অনেকটা কাচের দরজাওয়ালা ধাতব কেবিনের মতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন মানুষ এই কেবিনের ভেতরে ঢুকে বসছেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরে লাগছে ঠাণ্ডা বাতাস।

এই ‘মানুষের ফ্রিজ’ তৈরি করেছে জাপানের দুটি প্রতিষ্ঠান—এসডিআরএস এবং ট্রাসকো নাকায়ামা।

নির্মাতাদের ধারণা, জাপানের রাস্তায় থাকা ঠাণ্ডা পানীয়ের স্বয়ংক্রিয় বিক্রয়যন্ত্র থেকেই এই প্রযুক্তির ভাবনা এসেছে। যেমন দ্রুত একটি পানীয় নিয়ে মানুষ স্বস্তি পায়, তেমনি এই যন্ত্রেও কয়েক মিনিটের মধ্যে শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা থাকবে।
যন্ত্রটির ভেতরের তাপমাত্রা সাধারণ অবস্থায় রাখা হবে প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কেউ ভেতরে প্রবেশ করলেই তাপমাত্রা নেমে আসবে প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

Advertisements

মাথার ওপর থেকে নামবে ঠাণ্ডা বাতাস, যা শরীরের অতিরিক্ত গরম কমাতে সাহায্য করবে। নির্মাতাদের দাবি, মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই শরীরের গরম কমতে শুরু করবে। প্রায় ১০ মিনিট এই কেবিনের ভেতরে থাকলে গরমের কারণে তৈরি হওয়া ক্লান্তিও অনেকটা কমে যাবে। তবে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার ঝুঁকি এড়াতে ২০ মিনিট পর যন্ত্রটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তি মূলত কারখানা, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তার মতো জায়গায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাইরে কাজ করা মানুষদের জন্য এটি কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে এই প্রযুক্তি কিনতে খরচও কম নয়। ‘ডো হিয়েমন বক্স’-এর দাম প্রায় ৮ লাখ ৮৬ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি টাকায় এর দাম দাঁড়ায় আনুমানিক ১২ লাখ থেকে ১৩ লাখ টাকা। মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে দামের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

তবে নতুন এই আবিষ্কার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। কেউ বলছেন, প্রচণ্ড গরমের সময়ে এমন প্রযুক্তি মানুষের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার মূল সমস্যার সমাধান না করে শুধু মানুষকে ঠাণ্ডা করার প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে।

Advertisements
জাপানফ্রিজমানুষ