বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে হোয়াটসঅ্যাপে সাইবার হামলার চেষ্টা

pngtree-whatsapp-icon-png-image_3584845

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন করে সাইবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্মটি। তাদের অভিযোগ, এই অভিযানের পেছনে রয়েছে বিতর্কিত স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। ব্যবহারকারীদের প্রতারণামূলক বার্তার মাধ্যমে ক্ষতিকর লিংকে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা সফল হলে ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিভাইসের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারত।

হোয়াটসঅ্যাপের এক তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারীরা ‘স্পিয়ার ফিশিং’ কৌশল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের টার্গেট করেছিল। এ ধরনের হামলায় সাধারণত বিশ্বাসযোগ্য পরিচয় ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে বিভ্রান্ত করা হয়, যাতে তিনি অজান্তেই ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেন।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, সাম্প্রতিক এই কার্যক্রমের সঙ্গে ২০২৪ সালে জর্ডানে শনাক্ত হওয়া একটি সাইবার হামলার কৌশলগত মিল রয়েছে। সেই ঘটনায় প্রতারণামূলক লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে পেগাসাস স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।

নতুন অভিযোগ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি এনএসও গ্রুপ।

হোয়াটসঅ্যাপ ও এনএসও গ্রুপের দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৪০০–এর বেশি ব্যবহারকারী একটি সমন্বিত হ্যাকিং অভিযানের শিকার হওয়ার পর এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত গত বছর প্রতিষ্ঠানটিকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা বা নজরদারিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।

হোয়াটসঅ্যাপের অভিযোগ, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া ফিশিং কার্যক্রম আদালতের সেই নির্দেশনার পরিপন্থী। এ কারণেই এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও উত্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বজুড়ে বহু বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে পেগাসাস। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারি সংস্থা কিংবা তাদের হয়ে কাজ করা বিভিন্ন পক্ষ এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী ও সমালোচকদের স্মার্টফোনে নজরদারি চালিয়েছে। ফলে নতুন এই অভিযোগও আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাইবার হামলাস্পাইওয়্যারহোয়াটসঅ্যাপ