ফাঁদ পেতে ৪০০ শালিক পাখি হ’ত্যার অভিযোগ, চারজনের বিরুদ্ধে মা’মলা

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ফাঁদ পেতে প্রায় ৪০০টি শালিক পাখি শিকার ও হত্যার অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী দায়ের করা এ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত চার ব্যক্তি হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার হাটবিলা গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব তালুকদার (৩৫), মো. আশিক (২৪), মো. ইসলাম (২৬) এবং মো. সজীব (৩২)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘটনায় পরিবেশের প্রায় ১০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক পাখি নিধনের ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই অভিযুক্তরা হাটবিলা বিল এলাকায় ফাঁস জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে শালিক পাখিগুলো শিকার করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাখিগুলোর মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই এ শিকার করা হয়েছিল।
ঘটনার সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলেও পরে পাখি শিকারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি নজরে আসার পর বন বিভাগ ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয়ভাবে তদন্ত শুরু করে।
রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য পাখি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, উদ্ভিদের পরাগায়নে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই এ ধরনের নির্বিচার পাখি নিধন শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
এদিকে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আলম জানিয়েছেন, বন বিভাগের করা অভিযোগ থানায় গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



