বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

নারী-শিশু সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার: মির্জা ফখরুল

Fakhrul1_20260727_203055133

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ দমনে সরকার আইন আরও কঠোর করেছে এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধানও কার্যকর রয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশে উন্নয়ন, সুশাসন ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি নাগরিককে সচেতন, দায়িত্বশীল এবং আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সমাজকে পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক করতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সামাজিক পরিবর্তনের শুরু হতে হবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, নিয়ম-শৃঙ্খলা অমান্য করা কিংবা নাগরিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেক মানুষকে নিজের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

Advertisements

নারী ও শিশু সুরক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সরকার আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে। যাতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার পান এবং অপরাধীরা কঠোর শাস্তির আওতায় আসে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

মাদককে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

হাসপাতালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ইতোমধ্যে ৬০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং সেবার মান আরও উন্নত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালের জনবল সংকট দূর করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রোগীদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো হাসপাতালটিকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েলসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements
নারীমির্জা ফখরুলশিশুসরকারসুরক্ষা