বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

হুমকিতে জাতীয় পাখির অস্তিত্ব, হারিয়ে যাচ্ছে দোয়েল

images

একসময় ভোরের নীরবতা ভাঙত জাতীয় পাখি দোয়েলের মিষ্টি শিষে। গ্রামবাংলার আকাশ-বাতাস মুখর হয়ে উঠত ছোট্ট এই পাখির সুমধুর ডাকে। বাড়ির আঙিনা, গাছের ডাল কিংবা খড়ের চাল—সবখানেই ছিল দোয়েলের অবাধ বিচরণ। তবে আধুনিকতার প্রভাব, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল এখন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকায় সহজেই দেখা মিলত দোয়েলের। ভোরে শিশুদের পড়তে যাওয়া কিংবা কৃষকের মাঠে যাওয়ার সময় সঙ্গী হতো এই পাখির ডাক। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, দোয়েলের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার। দোয়েলের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়। কিন্তু কীটনাশকের প্রভাবে এসব পোকা বিষাক্ত হয়ে পড়ায় তা খেয়ে দোয়েলও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের বেঁচে থাকা ও প্রজনন ক্ষমতার ওপর।

এ ছাড়া দ্রুত নগরায়ন, নির্বিচারে গাছপালা কেটে ফেলা, ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও দোয়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। আগে গাছের কোটর, পুরোনো ঘরের চাল বা ঝোপঝাড়ে সহজেই বাসা বাঁধতে পারলেও বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পড়ছে পাখিটি।

Advertisements

দোয়েল শুধু বাংলাদেশের জাতীয় পাখি নয়, এটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের ফসল রক্ষায় সহায়তা করে এই পাখি। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের খাদ্যচক্রেও রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দোয়েল সংরক্ষণে কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো, গাছপালা রক্ষা করা এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

দোয়েলের মিষ্টি শিষ শুধু একটি পাখির ডাক নয়, এটি বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ। জাতীয় পাখিকে রক্ষা করা মানে দেশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখা।

Advertisements
দোয়েলবাংলাদেশ