যে বিরল রোগে আক্রান্ত হলে শুধু শোনা যায় নারী কণ্ঠস্বর

চীনের শিয়ামেন শহরের এক তরুণী এক সকালে ঘুম থেকে উঠে বিস্ময়কর এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তিনি বুঝতে পারেন, প্রেমিকের কথা শুনতে পাচ্ছেন না। প্রথমে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকের কাছে গেলে জানা যায়, তিনি একটি অত্যন্ত বিরল শ্রবণ সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তরুণী ‘রিভার্স স্লোপ হিয়ারিং লস’ (Reverse Slope Hearing Loss) নামের এক ধরনের বিরল রোগে আক্রান্ত।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অবস্থায় মানুষের নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দ শোনার ক্ষমতা কমে যায় বা হারিয়ে যায়। ফলে গভীর স্বরের শব্দ, যেমন অধিকাংশ পুরুষের কণ্ঠ, বজ্রধ্বনি কিংবা বেজ-সমৃদ্ধ সঙ্গীতের অংশ তার কানে পৌঁছায় না।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, উচ্চ-কম্পাঙ্কের শব্দ তিনি স্বাভাবিকভাবেই শুনতে পারছিলেন। তাই নারীদের তুলনামূলক উচ্চস্বরে কথা বলা বা অন্যান্য উচ্চ-পিচের শব্দ শুনতে তার কোনো সমস্যা হচ্ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিভার্স স্লোপ হিয়ারিং লস অত্যন্ত বিরল। শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রতি ১২ হাজার ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, মেনিয়েরস রোগ , অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে এটি হতে পারে।
যদিও এমন পরিস্থিতি আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ভীতিকর হতে পারে, চিকিৎসকেরা আশ্বস্ত করেছেন যে এটি সব সময় স্থায়ী নয়। অনেক রোগী পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা ফিরে পান। আবার কারও ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের হিয়ারিং এইড ব্যবহার করা হয়, যা নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দকে বাড়িয়ে শুনতে সহায়তা করে।
অস্বাভাবিক এই ঘটনার খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
‘নারীদের কথা শুনতে পারছেন, কিন্তু পুরুষদের নয়’— এমন বিরল পরিস্থিতি বহু মানুষের কৌতূহলের কারণ হয়ে ওঠে। তবে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনো ব্যক্তিগত বা মানসিক বিষয় নয়; সম্পূর্ণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যাযোগ্য একটি শারীরিক অবস্থা।
সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে ওই তরুণীর স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।



