সরীসৃপ প্রাণীর রেস্তোরাঁ

খাওয়ার সময় সাপ, টিকটিকির কথা শুনলেই অনেকের গা শিউরে ওঠে। কিন্তু যদি বলা হয় এমন এক রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে মানুষ যায় সরীসৃপ প্রাণীদের সঙ্গে খাবার-পানীয় উপভোগ করতে, বিশ্বাস হবে? মালয়েশিয়ায় রয়েছে এমনই এক ভিন্ন রেস্তোরাঁ। মালয়েশিয়ার এই রেস্তোরাঁর নাম ‘ফ্যাংস বাই ডেকোরি’র কথা। শুধু মালয়েশিয়া নয়, পুরো পৃথিবীতেই এমন রেস্টুরেন্ট এই প্রথম।
সাপ, ড্রাগন, লেপার্ড, লিজার্ড- কী নেই এখানে। রেস্তোরাঁর মালিক ইয়াপ মিং ইয়াংয়ের আশা- এই রেস্তোরাঁয় এসে হলেও মানুষ সাপ আর অন্যান্য সরীসৃপ সম্পর্কে জানবে। বিড়াল বা কুকুরের মতো পোষা প্রাণী নিয়ে তো রেস্তোরাঁ অনেক আছে। তবে ইয়াপ মিং ইয়াংয়ের এই রেপ্টাইল রেস্টুরেন্ট সবকিছু থেকে যেন একদমই আলাদা।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটু পাশে অবস্থিত রেস্তোরাঁর সব সরীসৃপই দেশীয়।
ভাবছেন, এমন রেস্টুরেন্টে কেউ আসবে না? বাস্তবে কিন্তু এমনটা হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে সরীসৃপ ক্যাফেটি। বাচ্চাদের নিয়ে বাবা-মায়েরা ভিড় করছেন ক্যাফেতে। সেখানে খাবার-পানীয়ের পাশাপাশি চলছে সরীসৃপদের সাথে খেলাধুলো।

পরিবেশবিজ্ঞানে পড়াশোনা করলেও ইয়াপের আগ্রহের জায়গা সবসময়ই ছিল হারপেটোলজি বা সরীসৃপবিদ্যা। কিন্তু সাধারণ মানুষ অন্যান্য পোষা প্রাণীর মতো সরীসৃপ সম্পর্কে আগ্রহ দেখায় না বললেই চলে। এদের পাচারও চলে অনেক বেশি পরিমাণে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে। এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সরীসৃপ সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ আর ভালোবাসাকে বাড়িয়ে তুলতেই এমন উদ্যোগ নেন ইয়াপ।
সরীসৃপ নিয়ে এমন উদ্যোগ এই প্রথম হলেও এর আগে জাপানে মাছ নিয়ে একটু ভিন্ন আরেকটি রেস্তোরাঁ তাদের যাত্রা শুরু করে। সেটা অবশ্য মাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে নয়। ‘জাউয়ো’ নামের জাপানী এই রেস্টুরেন্টে গ্রাহকদের মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। মাছ ধরতে পারলে সেই মাছটাই রান্না করে আনা হয় তাদের পছন্দমতো। সাথে থাকে মাছ ধরেছেন যিনি তার ছবি তোলা, নাম ঘোষণা করার মতো ব্যাপারগুলোও। সরীসৃপ নিয়ে আগ্রহ থাকলে মালয়েশিয়ান রেস্তোরাঁ ফ্যাং থেকে কিন্তু ঘুরে আসতেই পারেন।



