বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

প্রেম, টান আর কেমিস্ট্রির পেছনে রহস্য কি ফেরোমোন?

image-640147-1675087525

কখনো কি এমন হয়েছে, কোনো মানুষকে দেখেই মনে হয়েছে তিনি খুব পরিচিত? কিংবা কারও পাশে থাকলেই এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করেন, অথচ এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পান না? বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনুভূতির পেছনে শরীরের কিছু অদৃশ্য রাসায়নিক সংকেত কাজ করতে পারে, যেগুলোকে বলা হয় ফেরোমোন।

ফেরোমোন হলো এমন এক ধরনের রাসায়নিক বার্তা, যা শরীর থেকে নিঃসৃত হয়ে একই প্রজাতির অন্য সদস্যের আচরণ বা অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাণিজগতে এর কার্যকারিতা সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও মানুষের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের সামাজিক ও আবেগীয় সম্পর্ক গঠনে এর কিছু প্রভাব থাকতে পারে।

আকর্ষণ তৈরি
মানুষের প্রতি মানুষের আকর্ষণ শুধু চেহারা বা কথাবার্তার ওপর নির্ভর করে না। শরীরের স্বাভাবিক গন্ধও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কারও শরীরের গন্ধ আমাদের কাছে আরামদায়ক বা আকর্ষণীয় মনে হলে তার প্রতি ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অনেক সময় এ কারণেই প্রথম সাক্ষাতেই কারও প্রতি বিশেষ টান অনুভূত হতে পারে।

আস্থা ও ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি
সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু গবেষণার তথ্য বলছে, নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক সংকেত মানুষের মধ্যে ইতিবাচক আবেগ, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কারও উপস্থিতি, গন্ধ, আচরণ কিংবা কণ্ঠস্বর যখন আমাদের স্বস্তি দেয়, তখন মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে তাকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে। এর ফলেই সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে।

আবেগ বিস্তার
মানুষের আবেগ কখনো কখনো আশপাশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শরীর থেকে নির্গত কিছু রাসায়নিক সংকেত এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন- কোনো ব্যক্তি উদ্বিগ্ন বা ভীত থাকলে তার আচরণের পাশাপাশি শরীরের নির্গত সংকেতও অন্যের মধ্যে একই ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। আবার আনন্দ ও প্রশান্তিও একইভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার ফলে একজন মানুষের স্বাভাবিক গন্ধের সঙ্গে অন্যজনের ইতিবাচক স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে যেতে পারে। ফলে সেই গন্ধ পরবর্তীতে নিরাপত্তা, ভালোবাসা কিংবা স্বস্তির অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। এ কারণেই প্রিয়জনের ব্যবহৃত কোনো পোশাক বা পরিচিত গন্ধ অনেক সময় দূরে থাকলেও কাছের অনুভূতি দেয়।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানুষের প্রেম, আকর্ষণ বা সম্পর্কের পেছনে শুধু ফেরোমোনই কাজ করে না। ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, মানসিক সামঞ্জস্য, অভিজ্ঞতা, যোগাযোগের ধরন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তবুও কিছু ক্ষেত্রে কারও প্রতি অকারণ ভালো লাগা, স্বস্তি কিংবা দ্রুত মানসিক সংযোগ তৈরি হওয়ার পেছনে শরীরের এই নীরব রাসায়নিক সংকেতের একটি ভূমিকা থাকতে পারে। তাই মানুষের অনুভূতির জগৎ শুধু মন দিয়ে নয়, শরীরের সূক্ষ্ম রসায়ন দিয়েও অনেকটা পরিচালিত হয়।

প্রেমফেরোমোনবিজ্ঞানরাসায়নিকসংকেত