এসি রুমে লুকিয়ে আছে সাফোকেশনের ঝুঁকি?

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি খুঁজতে অনেকেই দীর্ঘ সময় এসি রুমে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ আবার দিন-রাত প্রায় পুরো সময়ই কাটাচ্ছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে। তবে আরামদায়ক এই পরিবেশের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে একটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি- ‘সাফোকেশন’ বা শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় অবস্থান, অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সাফোকেশন কী?
সাফোকেশন হলো এমন একটি অবস্থা, যখন শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না অথবা শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হয়। গলায় খাবার আটকে যাওয়া, শ্বাসনালী চেপে যাওয়া কিংবা বদ্ধ পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও সাফোকেশন হতে পারে।
শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে?
শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি শুরু হলে দ্রুত বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। প্রথমদিকে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে ঠোঁট ও নখ নীলচে হয়ে যায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘সায়ানোসিস’ নামে পরিচিত।
অক্সিজেনের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আক্রান্ত ব্যক্তি জ্ঞান হারাতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক কয়েক মিনিটের বেশি অক্সিজেন না পেলে স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
এসি রুমে কেন বাড়ে ঝুঁকি?
অনেকেই মনে করেন, এসি বাইরে থেকে নতুন বাতাস এনে ঘর ঠান্ডা করে। বাস্তবে অধিকাংশ স্প্লিট ও উইন্ডো এসি ঘরের ভেতরের বাতাসই পুনরায় ঠান্ডা করে ছড়িয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় দরজা-জানালা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে ঘরের বাতাসের মান ধীরে ধীরে খারাপ হতে পারে।
মানুষ শ্বাস নেওয়ার সময় অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বাড়তে থাকে। পাশাপাশি এসির অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, ফিল্টারে ধুলাবালি জমে থাকা কিংবা কোনো ধরনের গ্যাস লিকের ঘটনাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবেশ বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
ঝুঁকি এড়াতে যা করবেন
সাফোকেশনের ঝুঁকি কমাতে কিছু সাধারণ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে-
- দিনে কয়েকবার দরজা-জানালা খুলে ঘরে তাজা বাতাস প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।
- দীর্ঘ সময় একটানা সম্পূর্ণ বদ্ধ পরিবেশে না থাকা।
- এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করা ও প্রয়োজনীয় সার্ভিসিং করানো।
- ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
- মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি অনুভব করলে দ্রুত খোলা জায়গায় চলে যাওয়া।
গরমে স্বস্তির জন্য এসি ব্যবহার অবশ্যই প্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে সেই স্বস্তি যেন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ না হয়, সেজন্য সচেতনতা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সতর্কতাই সাফোকেশনের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।



