বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১ জুন, ২০২৬
বিনোদন

জ্যাকুলিন কি আসলেই ভুক্তভোগী? প্রশ্ন তুলল আদালত

73347_s5du

২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচার মামলায় বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দাবি করে আসছিলেন, এই মামলায় তিনি প্রতারণার শিকার এবং একজন ভুক্তভোগী। তবে দিল্লির একটি আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সেই দাবির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আদালতের মতে, প্রাথমিকভাবে এমন পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা যায় যে অভিযুক্ত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও জ্যাকুলিন তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছিলেন।

গত শনিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশন বিচারক প্রশান্ত শর্মা ২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচার মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজও।

অভিযোগ গঠনের সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, অপরাধলব্ধ অর্থের ব্যবহার গোপন করার ক্ষেত্রে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে ‘যোগসাজশে’ ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।

বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে এমন ‘শক্তিশালী সন্দেহ’ তৈরি হয়েছে, যা অভিযোগ গঠনের জন্য যথেষ্ট।

আদালতের নথি অনুযায়ী, জ্যাকুলিন প্রায় ৫ কোটি ৭১ লাখ রুপি মূল্যের বিভিন্ন উপহার গ্রহণ করেছিলেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত পিঙ্কি ইরানি ও লীপাক্ষি এলাওডির মাধ্যমে তিনি সুকেশের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

তদন্ত সংস্থার দাবি, সুকেশ শুধু জ্যাকুলিনকেই নয়, তার পরিবারের সদস্যদেরও আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যাকুলিনের বোন জেরাল্ডিন জে ওয়াকারের বিদেশি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছিল। একইভাবে তার ভাই ওয়ারেন জে ফার্নান্দেজের হিসাবে পাঠানো হয় প্রায় ২৬ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার।

এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় জ্যাকুলিন স্বীকার করেছিলেন যে তার বাবা-মায়ের জন্য কেনা গাড়িগুলো তিনি পেয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, এসব গাড়িও অপরাধলব্ধ অর্থ ব্যবহার করে কেনা হয়েছিল। আদালতের মতে, এসব তথ্য অপরাধলব্ধ সম্পদের ব্যবহার গোপন করার ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

২০০ কোটি রুপির এই মামলা গত কয়েক বছর ধরে ভারতের অন্যতম আলোচিত অর্থ পাচার কাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখর বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন।

জ্যাকুলিনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল, সুকেশ নিজেকে একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ বলছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিচারক উল্লেখ করেছেন, জ্যাকুলিনকে সুকেশের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনগুলোতে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ঘুষ এবং ব্যাংক প্রতারণাসহ নানা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য ছিল।

আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও অভিযোগ গঠন মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়, তবে আদালত যে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পেয়েছেন, সেটিই মামলাটিকে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিয়ে গেছে।

এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে বলিউড এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের।

আদালতজ্যাকুলিনদিল্লিবলিউডমামলা