নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি অসুস্থ , জামিনের পর হাসপাতালে ভর্তি
২০২৩ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইরানের অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ত...

২০২৩ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইরানের অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দিয়েছে। নারী-পুরুষ- সবার মানবাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য তিনি লড়াই করেছেন। সংগ্রামের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। ইরানের সরকার তাঁকে ১৩ বার গ্রেপ্তার করেছে, ৫ বার আদালতে দোষী সাব্যস্ত করেছে। মোট ৩১ বছরের জেল ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছে।

২০১১ সালে নার্গিস মোহাম্মদিকে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কারাবন্দী ও তাঁদের পরিবারকে সহায়তা করার চেষ্টার জন্য তাঁকে অনেক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই বছর পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেন। তাঁর দাবি ছিল, কাউকেই শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে ২০১৫ সালে নার্গিস মোহাম্মদিকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে আসার পর তিনি ইরানের কারাগারে রাজনৈতিক বন্দী, বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার বিরোধিতা করা শুরু করেন।

এবার ইরানের মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ভারী অঙ্কের জামিনে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবারের পরিচালিত ফাউন্ডেশন।
আজ (১১ মে) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, নার্গিস মোহাম্মদিকে তেহরানের পার্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার নিজস্ব চিকিৎসক দল চিকিৎসা দিচ্ছেন। গত সপ্তাহে তার পরিবার ও সমর্থকেরা সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, যথাযথ চিকিৎসা না পেলে তিনি কারাগারেই মারা যেতে পারেন। চলতি বছরে তিনি দু’বার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
৫৪ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি নারীর অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকার জন্য ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তার প্যারিসপ্রবাসী স্বামী জানিয়েছেন, নার্গিসের শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়। এছাড়া তার আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার কারণে তার ওজন প্রায় ২০ কেজি কমে গেছে এবং তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না।


