বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনসোমবার, ১১ মে, ২০২৬
নারী

পথের প্রাণীদের ‘মা’ মৌসুমী

মানুষ শুধু নিজের জন্যই নয়, অন্য প্রাণীর প্রতিও মমতা দেখাতে পারে- এমন এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন ময়মনসিংহ নগরীর হামিদ উদ্দিন রোডের বাসিন্দা মৌসুমী আক্...

mymensing-2-20210509130149

মানুষ শুধু নিজের জন্যই নয়, অন্য প্রাণীর প্রতিও মমতা দেখাতে পারে- এমন এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন ময়মনসিংহ নগরীর হামিদ উদ্দিন রোডের বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার। পথের অসহায় কুকুর ও বিড়ালদের আশ্রয় দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন তাদের ‘মা’।

ছোটবেলা থেকেই পশুপাখির প্রতি ভালোবাসা ছিল মৌসুমীর। সময়ের সঙ্গে সেই টান আরও গভীর হয়েছে। নিঃসঙ্গ জীবনে পথের প্রাণীদের সঙ্গেই খুঁজে পেয়েছেন আপন ঠিকানা। আশপাশে কোনো কুকুর বা বিড়াল বাচ্চা দিলে সেগুলো নিজের কাছে এনে যত্নে লালন-পালন করেন তিনি।

বর্তমানে তার বাসায় রয়েছে ১৯টি বিড়াল ও ২টি কুকুর। তবে সম্প্রতি ভাইরাসজনিত রোগে ১১টি বিড়ালছানা মারা যাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। তারপরও থেমে যাননি। নিজের খাবারের পাশাপাশি প্রাণীগুলোর খাবারের খরচ জোগাতে চালান একটি ছোট মুদি দোকান। মাঝে মাঝে পরিচিত পশুপ্রেমীরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

তবে এমন মানবিক উদ্যোগকে ভালোভাবে নেন না অনেক প্রতিবেশী। কুকুর-বিড়াল রাখার কারণে বাসা নোংরা হয়, দুর্গন্ধ ছড়ায়- এমন অভিযোগ তুলে প্রায়ই কটু কথা শুনতে হয় তাকে। এমনকি এসব নিয়ে তার বড় ভাইয়ের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভাই বিদেশে থাকলেও বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন। কিন্তু যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই মৌসুমীর।

সব প্রতিকূলতার মধ্যেও পথের প্রাণীদের ছেড়ে যেতে চান না তিনি। বরং ভবিষ্যতে অসুস্থ ও মালিকহীন কুকুর-বিড়ালের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। তার আশা, সরকারিভাবে জায়গা পেলে সেখানে ঘর তৈরি করে প্রাণীগুলোর আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

মৌসুমী জানান, ময়মনসিংহে তার মতো আরও অনেক তরুণ-তরুণী রয়েছেন যারা পশুপ্রেমী এবং এসব প্রাণীর জন্য কাজ করতে আগ্রহী। তাদের সবাইকে নিয়ে একদিন বড় পরিসরে পথের প্রাণীদের সেবা করতে চান তিনি।

অবহেলিত ও অবুঝ প্রাণীদের ভালোবাসা আর মায়ের মমতায় আগলে রেখে তৃপ্তি খুঁজে পান মৌসুমী। আর সেই ভালোবাসার বন্ধনেই গড়ে উঠেছে মানুষ ও প্রাণীর এক অনন্য সহাবস্থান।

প্রাণীমামৌসুমী